কলকাতা, ১৪ মে, ২০২৬: বামপন্থী রাজনীতিতে শোকের ছায়া। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার ডিসান হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেতা, প্রাক্তন সাংসদ ও বিধায়ক কমরেড সুধাংশু শীল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আজীবন নিবেদিতপ্রাণ এই নেতার প্রয়াণ বামপন্থী আন্দোলনের জন্য এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করল।
বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন
১৯৪৫ সালের ২৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করা সুধাংশু শীল দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কলকাতার শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। সিপিআই(এম)-এর কলকাতা জেলা কমিটির একনিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য মাইলফলকগুলি হলো:
লোকসভার সাংসদ: ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেড়ে যাওয়া কলকাতা উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্র থেকে তিনি সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন এবং ১৪তম লোকসভায় মেহনতী মানুষের আওয়াজ তুলে ধরেন। তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাস তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
বিধায়ক: তিনি কলকাতার জোড়াবাগান বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
কলকাতা পুরসভায় দায়িত্ব: কলকাতা পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং পুরসভায় দলের চিফ হুইপ-এর দায়িত্বও সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনেও তিনি দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
মেহনতী মানুষের আপনজন
আজীবন বামপন্থী আদর্শে অবিচল কমরেড সুধাংশু শীল ছিলেন কলকাতার বস্তিবাসী, শ্রমিক এবং খেটে খাওয়া মানুষের এক পরম বন্ধু। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে এবং তাঁর অসংখ্য অনুগামীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
বামপন্থী নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ এই বর্ষীয়ান জননেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
কমরেড সুধাংশু শীল লাল সেলাম। কমরেড সুধাংশু শীল অমর রহে। 🔴


