" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory সৌজন্যের রাজনীতি নাকি বামপন্থার পুনর্জাগরণ? চন্দননগরে দেখা মিলল এক বিরল মুহূর্তের //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

সৌজন্যের রাজনীতি নাকি বামপন্থার পুনর্জাগরণ? চন্দননগরে দেখা মিলল এক বিরল মুহূর্তের

 



চন্দননগর, ৪ঠা মে: ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই গতকাল এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল চাপদাঁনি বিধানসভা এলাকা। ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা। একদিকে বিজয়োল্লাস, স্লোগান আর রাজনৈতিক বাক্যবাণ; অন্যদিকে এক লড়াকু নেত্রীর বিদায়বেলার আবেগ। এই দুই বৈপরীত্যের মাঝে চন্দননগরের মাটি খুঁজে পেল এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা— যা কি না সম্মানের।


উল্লাস ও 'অলংকারের' আসর

সন্ধ্যা নামতেই চাপদাঁনি বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থী দিলীপ সিং তাঁর বিশাল অনুগামী দল নিয়ে রাস্তায় বের হন। স্লোগান আর উল্লাসে তখন এলাকা মুখরিত। উল্টোদিকে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি সমর্থকরা। দিলীপ সিং গাড়ি থেকে নেমে সমর্থকদের সাথে করমর্দন সারছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই একদল বিজেপি কর্মী তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তৃণমূলের উদ্দেশ্যে ‘অভিধানের যাবতীয় অলংকার’ (কটূক্তি) বর্ষণ করতে শুরু করেন। উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দিলীপ সিং তাঁর কনভয় নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।

হঠাৎ নিস্তব্ধতা: মিনাক্ষীর প্রবেশ

বিজেপি সমর্থকদের সেই জয়োল্লাস আর গালিগালাজের আবহেই হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ বলে ওঠেন— "ওই তো মিনাক্ষী মুখার্জি বেরোচ্ছেন!"

মুহূর্তের মধ্যে চিত্রনাট্য বদলে যায়। যে জটলা থেকে কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত তপ্ত বাক্যবাণ ছুটছিল, সেখানে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। বাম নেত্রী মিনাক্ষী মুখার্জি তাঁর পোলিং এজেন্ট ও সমর্থকদের নিয়ে গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন। লড়াইয়ের ময়দান থেকে বেরিয়েই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ লড়াইয়ের ক্লান্তি আর আগামীর শপথ নিয়ে সহযোদ্ধা কমরেডদের বুকে টেনে নেন তিনি। তাঁর চোখের কোণে তখন চিকচিক করছে জল।


অর্জিত সম্মান: এক অন্য বার্তা

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে বিজেপি সমর্থকরা তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের প্রতিনিয়ত ‘চোর’ বা অন্যান্য কুরুচিপূর্ণ বিশেষণে ভূষিত করছিলেন, মিনাক্ষী মুখার্জিকে সামনে দেখে তাঁদের কেউ একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। কোনো বিদ্রূপ নেই, কোনো গালিগালাজ নেই। বামপন্থী কর্মীদের উদ্দেশ্যে কোনো কটূক্তি ধেয়ে আসেনি সেই জটলা থেকে।


"এই সম্মান কেউ কাউকে উপহার দেয় না, এটা অর্জন করতে হয়।" — রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতাদের জনসমক্ষে নানা অপমানে বিদ্ধ হতে হচ্ছে, সেখানে মিনাক্ষী মুখার্জির প্রতি বিরোধীদের এই ‘নীরব সম্মান’ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বামেদের এই প্রাপ্তি কোনো ভোটের সমীকরণ নয়, বরং তাঁদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আর মাঠের লড়াইয়ের ফসল। গালিগালাজের রাজনীতিতে যখন সৌজন্য বিলুপ্ত হতে বসেছে, তখন চন্দননগরের এই সন্ধ্যা দেখিয়ে দিল— আদর্শ আর সততা আজও প্রতিপক্ষের মাথা নিচু করাতে বাধ্য করে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies