স্পোর্টস ডেস্ক | ভিউজ নাও
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করা এই কিংবদন্তির জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধুই আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। আর সেই শেষ বিশ্বকাপের শুরুটা মোটেও প্রত্যাশামতো হলো না।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের NRG Stadium-এ অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘কে’-এর ম্যাচে ফেভারিট পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রোনাল্ডো—তাঁর মিস করা সুযোগ, বয়সের সঙ্গে লড়াই এবং অধরা বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্ন।
রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ, রোনাল্ডোর স্বপ্ন
২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন রোনাল্ডো। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং এখন ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
ইউরো জিতেছেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন, ব্যালন ডি'অর জিতেছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক গোলের মালিক হয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও তাঁর হাতছাড়া।
এবারই হয়তো সেই স্বপ্ন পূরণের শেষ সুযোগ।
ম্যাচের শুরুতে পর্তুগালের আধিপত্য
ম্যাচের ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে স্বপ্নের সূচনা এনে দেন তরুণ মিডফিল্ডার।
গোলের পর বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রায় পুরোপুরি পর্তুগালের দখলে। ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনহা এবং রোনাল্ডো একের পর এক আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন।
মনে হচ্ছিল, দ্বিতীয় গোল আসতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
কিন্তু হাল ছাড়েনি কঙ্গো
অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে বিশ্বকাপে আসা ডিআর কঙ্গো হার মানেনি।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আর্থার মাসুয়াকুর ক্রস থেকে ইয়োয়ানে উইসার হেড পর্তুগালের জালে জড়িয়ে যায়।
সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাস সৃষ্টি হয়।
এটাই ছিল ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল।
১৯৭৪ সালে জায়ার নামে অংশ নেওয়ার পর ৫২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে এই মুহূর্তের জন্য।
রোনাল্ডোর সামনে এসেছিল সুযোগ
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফের নিজেদের হাতে নেয় পর্তুগাল।
৫৫ মিনিটে ক্যানসেলোর দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।
৬৮ মিনিটে রোনাল্ডোর সামনে আসে ম্যাচের সেরা সুযোগ। কিন্তু কাছ থেকে নেওয়া তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৭৩ মিনিটে আবারও প্রায় একই ধরনের সুযোগ পান তিনি।
কিন্তু সেদিন যেন ভাগ্যও তাঁর পক্ষে ছিল না।
গোল করতে ব্যর্থ হন পর্তুগাল অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে হতাশ মুখেই মাঠ ছাড়েন বিশ্বের অন্যতম সফল ফুটবলার।
বয়স বনাম অভিজ্ঞতা
৪১ বছর বয়সে এখনও জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন রোনাল্ডো। ফিটনেস ও মানসিক দৃঢ়তায় তিনি এখনও অনন্য।
তবে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ম্যাচে পরিষ্কার বোঝা গেছে, আগের মতো সহজে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙা আর সম্ভব হচ্ছে না।
তবুও রোনাল্ডোকে নিয়ে আশা শেষ হয়ে যায়নি।
কারণ ইতিহাস বলছে, যতবার তাঁকে শেষ বলে মনে করা হয়েছে, ততবারই তিনি নতুন করে ফিরে এসেছেন।
কঙ্গোর জন্য এক পয়েন্ট, এক দেশের আনন্দ
ডিআর কঙ্গোর কাছে এই ড্র একটি জয়ের সমান।
বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশের ফুটবলাররা দেখিয়ে দিলেন, স্বপ্ন দেখার জন্য অর্থ নয়, প্রয়োজন বিশ্বাস এবং লড়াই করার মানসিকতা।
পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়ে তারা শুধু একটি পয়েন্ট অর্জন করেনি, বিশ্বকে জানিয়েছে যে তারা এই বিশ্বকাপে লড়াই করতে এসেছে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপ কি রূপকথার সমাপ্তি পাবে?
নাকি বিশ্বকাপ ট্রফি তাঁর ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ স্বপ্ন হিসেবেই থেকে যাবে?
উত্তর এখনও অজানা।
তবে হিউস্টনের রাতে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে—রোনাল্ডোর শেষ বিশ্বকাপের পথ মোটেও সহজ নয়। আর ডিআর কঙ্গো এই বিশ্বকাপে শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, তারা ইতিহাস গড়ার মিশনে নেমেছে।








