ওয়াশিংটন/রোম, ২৫ জুন: ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের এক মন্তব্যকে ঘিরে ইতালি ও ন্যাটোর মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে রুটের বক্তব্য ইতালির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটনে সফররত মার্ক রুটে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নীরবে সহায়তা করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইতালির নাম উল্লেখ করে বলেন, ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে প্রায় ৫০০টি মার্কিন বিমান অভিযানে সহায়তার জন্য উড্ডয়ন করেছে।
রুটের এই মন্তব্যের পরই ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, রুটের বক্তব্য "সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর" এবং তা ইতালির সরকারি অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইতালি শুধুমাত্র ন্যাটোর বিদ্যমান চুক্তির আওতায় কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি সামরিক বা যুদ্ধমূলক (কাইনেটিক) অভিযানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ক্রোসেত্তোর দাবি, ন্যাটো মহাসচিব সরাসরি অভিযানের সঙ্গে যুক্ত নন। ফলে তার মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপের মুখে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকার এতদিন সংসদ ও জনগণের কাছে ইতালির প্রকৃত ভূমিকা স্পষ্ট করেনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তেসহ বিরোধী নেতারা মেলোনির কাছে সংসদে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযানের প্রশ্নে ইতালির জনমত বিভক্ত থাকায় বিষয়টি সরকারের জন্য আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। রুটের মন্তব্য মেলোনি সরকারের দীর্ঘদিনের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন অনেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত ঐক্য বজায় রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা ন্যাটো নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রকে ঘিরে প্রকাশ্য এই মতবিরোধ ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


