নিজস্ব সংবাদদাতা | ভিউজ নাও
প্রাক্তন ভারতীয় বায়ুসেনা কর্মী এবং বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-র ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ-এর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে নিজের আবাসনের সামনে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় ৪২ বছর বয়সি চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরের কেন্দ্রে রয়েছে এই মামলা।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা জুড়ে বিস্তৃত একটি আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র। তদন্তকারীদের মতে, এটি কোনও আকস্মিক হামলা নয়, বরং দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল।
তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে নিবেদিতা সেতু টোল প্লাজায় করা একটি ইউপিআই পেমেন্ট। অভিযুক্তরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে একাধিক কৌশল নিলেও ওই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই তাদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর একের পর এক গ্রেফতারি শুরু হয়।
তদন্তকারী মহলের প্রশ্ন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা কি শুধুই ‘এক্সিকিউটর’, নাকি তাদের পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও মস্তিষ্ক? কারণ ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত অস্ত্র, হামলার ধরন এবং ঘটনার পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা—সবকিছুই অত্যন্ত পেশাদার অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে ‘মনু’-র আত্মসমর্পণের পর তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। সিবিআই এখন খতিয়ে দেখছে, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অর্থের জোগান কোথা থেকে এসেছিল, কারা পরিকল্পনা করেছিল এবং খুনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় সাতজন গ্রেফতার হলেও এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি। খুনের নেপথ্যে কি শুধুই অপরাধ জগতের যোগসূত্র, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক বা আর্থিক স্বার্থ? সেই উত্তর খুঁজছে সিবিআই।


