বিশেষ সংবাদদাতা, ফরিদাবাদ: রাতের অন্ধকারে কোনও পূর্ব নোটিস ছাড়াই বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বসতি। প্রায় ৭০ বছর ধরে গড়ে ওঠা কলোনি এক নিমেষে ধ্বংস করার প্রতিবাদে এবং পুনর্বাসনের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ল হরিয়ানার ফরিদাবাদ। বুধবার বিকেল পর্যন্ত ফরিদাবাদের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) অফিসের সামনে চলে হাজার হাজার বাসিন্দা ও সমর্থকদের বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ। এই উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনকে সংহতি জানাতে এবং সংগঠিত করতে মূল ভূমিকা নেয় বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সিটু (CITU)। বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হয়ে উচ্ছেদ হওয়া বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান বর্ষীয়ান সিপিআই(এম) নেতা তথা সিটু সাধারণ সম্পাদক তপন সেন। তাঁর উপস্থিতি এই আন্দোলনকে আরও জোরালো রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের সমর্থন জুগিয়েছে।
তীব্র গরমে জল-বিদ্যুৎহীন কলোনি, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উচ্ছেদের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও ওই এলাকায় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানীয় জল না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, যা ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এই অমানবিক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুব্ধ জনতা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসন কোনও পর্যাপ্ত নোটিস বা বিকল্প থাকার ব্যবস্থা না করে কীভাবে এত মানুষকে গৃহহীন করতে পারে?
দায় এড়াচ্ছে প্রশাসন, মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী
উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসন ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই এলাকাগুলোতে অবৈধ নির্মাণ ও দখলদারি ছিল। তাই আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে উচ্ছেদের পর খোলা আকাশের নীচে চলে আসা পরিবারগুলোর পুনর্বাসন কিংবা জল-বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট বিবৃতি মেলেনি। ক্ষোভের তীব্রতা আঁচ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিসি অফিসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের উদাসীনতার মুখে দাঁড়িয়েও বিক্ষোভকারীরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্ষোভে ফুঁসছে বাম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো
ফরিদাবাদের এই অমানবিক উচ্ছেদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে জাতীয় রাজনীতিতেও। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বামপন্থী ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এই উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছে। কেন্দ্র ও হরিয়ানার রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বাম নেতৃত্ব। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের অধিকার রক্ষায় দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক লড়াই শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
আন্দোলনকারী নাগরিকরা সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ক্ষতিপূরণ, স্থায়ী পুনর্বাসন ও জল-বিদ্যুৎ পরিষেবা চালুর লিখিত এবং স্বচ্ছ প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না। একই সঙ্গে রাতের অন্ধকারে নোটিস ছাড়া কেন এই অভিযান চালানো হলো, তার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।




