দুর্গাপুর: বাড়ির থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে পানীয়র সাথে ওষুধ মিশিয়ে এক নাবালিকাকে অচৈতন্য করে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল দুর্গাপুরে। এই রোমহর্ষক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায়। নির্যাতিতা নাবালিকা বুদবুদ থানা এলাকার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী।
ঘটনার বিবরণ:
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ ওই নাবালিকাকে তার এক বান্ধবী (যার নাম সিমরন তামাং) বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে চারচাকা গাড়িতে করে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি হোটেলে (পার্ক সুইটস) নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানে কোল্ড ড্রিঙ্কসের সাথে মাদক বা কোনো ওষুধ মিশিয়ে তাকে নেশাগ্রস্ত ও বেহুঁশ করে দেওয়া হয় এবং তিন যুবক তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়।
শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ অভিযুক্তরা ওই নাবালিকাকে বুদবুদ বাইপাস এলাকায় (১ নম্বর গেটের কাছে) অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে একটি টোটো চালক মেয়েটিকে ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে তার বাড়ির সামনে পৌঁছে দেয়। এরপরই পরিবারের সদস্যরা পুরো বিষয়টি জানতে পারেন।
অভিযুক্তদের নাম:
নির্যাতিতার পরিবারের এবং স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, মূল অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে:
রাজ মল্লিক
এস কে আজারুদ্দিন (শেখ আজারুদ্দিন)
সিমরন তামাং (মূল চক্রী/মাস্টারমাইন্ড বান্ধবী)
পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত:
ঘটনার পর রাতেই দুর্গাপুর থানায় (সিটি সেন্টার ইনভেস্টিগেশন সেন্টার) লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নাবালিকার পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সকাল থেকেই তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার জানান যে, ইতিমধ্যেই মূল কালপ্রিট সিমরন তামাং সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত:
ঘটনার পর রাতেই দুর্গাপুর থানায় (সিটি সেন্টার ইনভেস্টিগেশন সেন্টার) লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নাবালিকার পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সকাল থেকেই তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার জানান যে, ইতিমধ্যেই মূল কালপ্রিট সিমরন তামাং সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিবার সকালেই ওই হোটেলে পৌঁছায় ফরেনসিক দল। তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। ধৃতদের সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।
পরিবারের দাবি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
নির্যাতিতার বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,
"আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৪ বছর। ওর বান্ধবীই ওকে টার্গেট করে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। যারা আমার মেয়ের ওপর এই অত্যাচার করেছে, আমি মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি এবং মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।"
নারী নিরাপত্তা আজ তলানিতে
বাম নেতাদের অভিযোগ, ভোটের আগে যে দল নারী নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে প্রধান হাতিয়ার করে 'সোনার বাংলা'র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাদের সেই আসল চেহারা প্রকাশ পেয়ে গেছে। দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলেও আজ নাবালিকারা নিরাপদ নয়। মাদক খাইয়ে গণধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনা প্রমাণ করে যে, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা আজ সম্পূর্ণ তলানিতে এসে ঠেকেছে।বামপন্থীদের দাবি, রাজ্যে কোনো 'আইনের শাসন' নেই। যদি এক মাসের মধ্যেই অপরাধীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে, তবে আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা ভাবলেই সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।বাম নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দুর্গাপুর সহ রাজ্যের যেকোনো প্রান্তেই নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তুলবেন। দুর্গাপুরের ঘটনায় যে ৩ জন (সিমরন তামাং, রাজ মল্লিক, এস কে আজারুদ্দিন) গ্রেফতার হয়েছে, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে তাদের যেন দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, সেই দাবিও তুলেছে বামফ্রন্ট। নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবিতে তারা সরব হয়েছেন।


