২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করল Ivory Coast। ফিলাডেলফিয়ার Lincoln Financial Field-এ অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আমাদ দিয়ালোর গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়। দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে এসে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ‘লে জেলেফঁ’রা, অন্যদিকে সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর পর প্রথমবারের মতো পরাজয়ের স্বাদ পেল Ecuador।
৬৮,২৭৪ দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল শারীরিক শক্তি, কৌশল এবং মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য প্রদর্শনী। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মিলছিল না। ফলে ম্যাচটি যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আসে সেই স্মরণীয় মুহূর্ত।
ম্যাচের ৯০তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুতগতির আক্রমণ শুরু করেন উইলফ্রিড সিঙ্গো। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে উঠে এসে তিনি ইকুয়েডরের ক্লান্ত রক্ষণভাগকে ভেঙে ডি-বক্সে একটি নিখুঁত ক্রস বাড়ান। সেই বলেই অসাধারণ টাইমিংয়ে বাঁ-পায়ের সাইড-ফুট শটে গোল করেন বদলি হিসেবে নামা আমাদ দিয়ালো। গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেজের কোনো সুযোগই ছিল না। পুরো স্টেডিয়াম তখন আইভরি কোস্ট সমর্থকদের উল্লাসে ফেটে পড়ে।
প্রথমার্ধে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইকুয়েডরের হাতে। শুরু থেকেই উচ্চ-চাপের ফুটবল খেলতে থাকে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। জন ইয়েবোয়ার শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর ৩০ মিনিটে অ্যালান মিন্দার বাঁকানো শটও পোস্টে আঘাত করে। দুটি নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া না হলে ম্যাচের গল্প ভিন্ন হতে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় আইভরি কোস্ট। ৫২ মিনিটে ইয়ান দিওমান্দের ক্রস থেকে এলি ওয়াহির ফ্লিক পোস্টে লাগে। এরপর ৬৮ মিনিটে গনজালো প্লাতার দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফাফানা। ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই আইভরি কোস্টের আক্রমণের ধার বেড়েছে।
পরিসংখ্যানও আইভরি কোস্টের আধিপত্যের প্রমাণ দেয়। বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও তারা ১৫টি শট নিয়েছে, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে ইকুয়েডর ১০টি শটের মধ্যে মাত্র একটি অন-টার্গেট রাখতে সক্ষম হয়। এক্সপেক্টেড গোল (xG) হিসাবেও আফ্রিকান প্রতিনিধিরা এগিয়ে ছিল (১.৫১ বনাম ০.৫২)।
এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে কোচ ইমার্স ফায়ের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ৫৬ মিনিটে আমাদ দিয়ালোকে মাঠে নামানোর পর আইভরি কোস্টের আক্রমণে নতুন গতি আসে। দিওমান্দেকে বাম দিকে সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইকুয়েডরের ফুলব্যাকদের উপর চাপ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেই চাপই নির্ণায়ক গোলের পথ তৈরি করে।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা। প্রথমার্ধে একাধিক সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি শেষ ১৫ মিনিটে অতিরিক্ত প্রেসিংয়ের কারণে তাদের রক্ষণভাগে ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই দুর্বলতারই সুযোগ নিয়ে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয় আইভরি কোস্ট।
এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘ই’-তে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে আইভরি কোস্ট। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে Germany ৭-১ গোলে কুরাসাওকে হারিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে। আগামী ২০ জুন আইভরি কোস্ট মুখোমুখি হবে জার্মানির, যা গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা বাঁচিয়ে রাখতে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না ইকুয়েডরের সামনে।


