ভিউস নাও ডেস্ক, ১৫ জুন, ২০২৬: রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে চরম উত্তেজনা। সর্বভারতীয় স্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্ব সমস্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে আক্রান্ত হলেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সোমবার (১৫ জুন) জয়পুরের শহীদ স্মারক চত্বরে তাঁকে কয়েক জন যুবক চড় মারে ও টানাহেঁচড়া করে বলে অভিযোগ। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, NEET পরীক্ষা সহ একাধিক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জয়পুরের শহীদ স্মারকে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল সিজেপি (CJP)।
দুপুর ৩টে নাগাদ অভিজিৎ দিপকে যখন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান, তখন উপস্থিত উত্তেজিত যুবকরা তাঁকে কাঁধে তুলে নেন। অভিযোগ, ঠিক সেই সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক আচমকাই দিপকের দিকে তেড়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে পর পর কয়েকটি চড় মারা হয় এবং তাঁর গলার স্কার্ফ ধরে টেনে নিচে নামানোর চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় প্রতিবাদস্থল। দিপকের সমর্থকরা পালটা অভিযুক্ত যুবকদের ওপর চড়াও হয়। দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয় সেখানে মোতায়েন থাকা পুলিশ বাহিনীকে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে দু'জন যুবককে আটক করেছে।
অভিজিতের শান্ত থাকার বার্তা ও হুঁশিয়ারি
আক্রান্ত হওয়ার পরেও অবশ্য দমে যাননি ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান। উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, "আমি ভেতরে ঢোকার সময়ই আমাকে মারধর করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ওপর যত ব্যবস্থাপনাই হোক না কেন, আমরা হাত তুলব না। যারা কাপুরুষ, তারাই হিংসার আশ্রয় নেয়। একটা নয়, একশোটা হামলা করলেও আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না।"
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে এবং প্রশ্ন ফাঁসের কারণে যে সমস্ত পড়ুয়ারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে। আগামী ২০ জুন এই দাবিতে তাঁরা পুনরায় দিল্লির বুকে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর রাজস্থান সরকারের আইন-শৃঙ্খলা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিজেপি নেতৃত্ব। দলের রাজ্য মুখপাত্র অভিষেক জৈন বিট্টু অভিযোগ করেছেন যে, শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রশাসন সমাজবিরোধীদের আটকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির মন্তব্যকে কটাক্ষ করে শুরু হওয়া এই 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সিজেপি আন্দোলনটি বর্তমানে দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশে সাড়া ফেলেছে। পুলিশ আপাতত আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক উস্কানি বা সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে।




