নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিরোধীদের দাবি, জনসমর্থনের ক্রমহ্রাস, সংগঠনের ভাঙন এবং একাধিক বিতর্কে জর্জরিত তৃণমূল এখন অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। সেই পরিস্থিতিতে অভিষেকের আক্রমণাত্মক বক্তব্য মূল সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল মাত্র।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার অভিযোগ জমেছে। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর সেই অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। দলের একাধিক নেতা-কর্মীর মধ্যে মতবিরোধ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
"বক্তৃতা নয়, জবাব চাই"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুললেও বিরোধীদের প্রশ্ন, রাজ্যের মানুষের কাছে তৃণমূলের জবাবদিহি কোথায়? কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, আইন-শৃঙ্খলা এবং দুর্নীতির মতো ইস্যুতে মানুষের অসন্তোষকে কি শুধুমাত্র রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়?
বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করা উচিত।
সমর্থকদের পাশে পেলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
অভিষেকের বক্তব্যের পর তৃণমূলের একাংশের কর্মী-সমর্থক উজ্জীবিত হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক ভাষণ দিয়ে হারানো জনভিত্তি ফিরে পাওয়া সহজ হবে না। সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজন স্পষ্ট কর্মসূচি এবং বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বার্তা।
সামনে কঠিন লড়াই
রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূল এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলেও ক্ষমতা হারানোর পর দলকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থান দলকে কতটা পুনরুজ্জীবিত করতে পারে, তা সময়ই বলবে। তবে বিরোধীদের দাবি, রাজনীতির ময়দানে এখন আর শুধুমাত্র আবেগ নয়, অতীতের কাজের হিসাবও দিতে হবে।


