কলকাতা, ২১ জুন: বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র ও নাট্যচর্চার ধারাবাহিক বিকাশে বামপন্থী আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে। বামপন্থী মহলের মতে, সরকারে থাকার সময় হোক কিংবা বিরোধী অবস্থানে, সুস্থ সংস্কৃতি, গণমুখী শিল্পচর্চা এবং প্রগতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বামপন্থীরা সর্বদাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের দীর্ঘ শাসনকাল, বিশেষত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও পরবর্তীকালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়ে বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগত এক সমৃদ্ধ অধ্যায়ের সাক্ষী হয়। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, উত্তম কুমার-সহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার আজও বাংলার সমাজজীবনে গভীর ছাপ রেখে চলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে রবিবার কলকাতার মুজফফর আহমেদ ভবনে সিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা কমরেড বিমান বসুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশিষ্ট অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার সৌরভ পালোধী। সাক্ষাৎকারে বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘অভিমান’ এবং সৌরভ পালোধীর নতুন চলচ্চিত্র ‘অনেকদিন পর’-কে কেন্দ্র করেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বামপন্থী নেতৃত্বের এই ধরনের মতবিনিময়কে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংস্কৃতিমনস্ক মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, সমাজমনন গঠনে শিল্প, সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন ধারার মানুষের মধ্যে সংলাপ ও যোগাযোগ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।




