Views Now Desk
অযোধ্যা: যে রাম মন্দিরকে ঘিরে কয়েক দশক ধরে ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেই অযোধ্যা রাম জন্মভূমি মন্দির এবার আলোচনায় এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগে। মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ইতিমধ্যেই আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৭৯ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৯৩ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
আদালত অভিযুক্তদের সোমবার পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কীভাবে সামনে এল দান কেলেঙ্কারির অভিযোগ?
সূত্রের খবর, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র-এ জমা পড়া নগদ অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, মন্দিরে আসা ভক্তদের দানের অর্থের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। এরপরই এফআইআর দায়ের করে পুলিশ।
এফআইআরে নাম রয়েছে আটজনের, যাদের মধ্যে রয়েছেন মন্দির-সংক্রান্ত কর্মী এবং ট্রাস্টের এক কর্মকর্তার গাড়িচালকও। তদন্তকারীদের ধারণা, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে।
অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি, উদ্ধার প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একাধিক অভিযানে সাতজন অভিযুক্তের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়েছে। মোট উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৯,৮৫,৪৯৩ টাকা।
এক অভিযুক্ত, সুভাষ শ্রীবাস্তব-এর কাছ থেকে অবশ্য কোনও নগদ উদ্ধার হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক এবং দান আত্মসাতের অভিযোগের পরিমাণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। এখন এই অর্থের উৎস, লেনদেনের পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর চক্রের খোঁজে তদন্ত এগোচ্ছে।
কোন কোন ধারায় মামলা?
পুলিশের দায়ের করা মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে রয়েছে—
চুরি
অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
প্রতারণা
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ডিজিটাল নথি, দান গণনার রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার এবং নতুন ধারাও যুক্ত হতে পারে।
রাম মন্দির: এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রতীক
অযোধ্যার রাম জন্মভূমি প্রশ্ন স্বাধীনোত্তর ভারতের অন্যতম দীর্ঘ ও বিতর্কিত রাজনৈতিক-ধর্মীয় ইস্যু।
১৯৮০-এর দশকের শেষ থেকে এই আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পর বিষয়টি আরও জটিল রূপ নেয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমি রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গঠিত শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করে। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের দানে নির্মিত এই মন্দিরকে বহু মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি জাতীয় আবেগের প্রতীক হিসেবেও দেখেন।
ঠিক সেই মন্দিরের দান তহবিল নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে— ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আসা জনসাধারণের অনুদান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরীক্ষা এবং জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?
তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে
এসআইটির দাবি, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দান সংগ্রহ, গণনা, সংরক্ষণ এবং ব্যাংকে জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, আরও নগদ উদ্ধার, নতুন অভিযুক্তের নাম এবং অতিরিক্ত গ্রেফতারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই মামলা এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।


