" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory ২১ জুন ১৯৭৭: পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের সূচনা, শুরু এক ঐতিহাসিক অধ্যায় //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

২১ জুন ১৯৭৭: পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের সূচনা, শুরু এক ঐতিহাসিক অধ্যায়

 




নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:
আজ থেকে ঠিক ৪৯ বছর আগে, ১৯৭৭ সালের ২১ জুন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এই দিনেই জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে রাজ্যে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে বামফ্রন্ট এমন এক রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা করেছিল, যা টানা ৩৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের শাসনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।

১৯৭৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষ, জরুরি অবস্থার অভিজ্ঞতা এবং গ্রামীণ মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রশ্নকে সামনে রেখে বামফ্রন্ট ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সিপিআই(এম)-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা জ্যোতি বসু। শপথ গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভূমি সংস্কার: বামফ্রন্ট সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার

ক্ষমতায় এসেই বামফ্রন্ট সরকার কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ভূমি সংস্কার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

সরকার জমির সর্বোচ্চ মালিকানার সীমা (ল্যান্ড সিলিং) কার্যকর করে উদ্বৃত্ত জমি অধিগ্রহণ করে ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে বণ্টন শুরু করে। একইসঙ্গে খাস ও বেনামি জমি চিহ্নিত করে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৯৭৮ সালে চালু হয় ঐতিহাসিক ‘অপারেশন বর্গা’, যার মাধ্যমে বর্গাদারদের সরকারি নথিভুক্তিকরণ শুরু হয়। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ভাগচাষি জমির উপর নিরাপত্তা ও উত্তরাধিকারসূত্রে চাষের অধিকার লাভ করেন। জমির মালিকদের ইচ্ছামতো উচ্ছেদের ভয় থেকে মুক্তি পান তাঁরা।

পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ ক্ষমতায়ন

ভূমি সংস্কারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। ১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসনের নতুন কাঠামো গড়ে ওঠে।

পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে শিবির করে বর্গাদারদের নাম নথিভুক্ত করা হয়, জমির দাবিদাওয়া যাচাই করা হয় এবং ভূমিহীনদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বণ্টনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কমে এবং সাধারণ কৃষকরা সরাসরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভূমি সংস্কার কর্মসূচি গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দরিদ্র মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার

২১ জুন ১৯৭৭ শুধুমাত্র একটি সরকার গঠনের দিন নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গে ভূমি সংস্কার, পঞ্চায়েতি গণতন্ত্র এবং কৃষক-শ্রমিকমুখী নীতির এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনাদিবস হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন সেই প্রথম বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যার আলোচনা আজও রাজনৈতিক মহলে প্রাসঙ্গিক।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies