কলকাতা, ১৮ জুন: গ্রামীণ দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের জন্য বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নতুন VB-G RAM G Act-কে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী এবং বামপন্থী সংগঠনগুলির দাবি, নতুন আইনটি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিবর্তে প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের অধিকারকে দুর্বল করতে পারে।
বিরোধীদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজ ছিল একটি আইনি অধিকার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না পেলে শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ বা বেকার ভাতার দাবি করতে পারতেন। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় সেই অধিকার অনেকটাই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, কেন্দ্রের নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দের ফলে গ্রামে প্রকৃত কাজের চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত কর্মদিবস তৈরি নাও হতে পারে। এর ফলে প্রতিবন্ধী, দলিত, আদিবাসী ও মহিলা শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আরও একটি বিতর্কিত বিষয় হল কেন্দ্র-রাজ্য ব্যয়ের অনুপাত। সমালোচকদের মতে, ৬০:৪০ অর্থায়নের ফলে রাজ্যগুলির উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে। আর্থিক সংকটে থাকা রাজ্যগুলি মজুরি প্রদান বা প্রকল্প বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়লে তার প্রভাব পড়বে সবচেয়ে দুর্বল শ্রমিকদের উপর।
বিরোধীরা আরও অভিযোগ করছেন যে কৃষি মৌসুমে দীর্ঘ বিরতির বিধান থাকলে বহু ভূমিহীন শ্রমিক ও প্রতিবন্ধী কর্মী বছরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাজ হারাতে পারেন। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামসভা ও পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, কোনও নতুন কর্মসংস্থান আইন তৈরির আগে প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের সংগঠন, গ্রামীণ শ্রমিক ইউনিয়ন ও সামাজিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া তৈরি নীতিতে বহু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে।
অন্যদিকে আইনটির সমর্থকদের দাবি, ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান, বিশেষ অগ্রাধিকার এবং সম্পদ সৃষ্টির সুযোগ গ্রামীণ প্রতিবন্ধী পরিবারগুলির আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—নতুন আইন কি সত্যিই গ্রামীণ প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের পথ খুলবে, নাকি কর্মসংস্থানের অধিকারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে? আইন কার্যকর হওয়ার আগে এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোরদার হয়েছে।


