বিশেষ প্রতিবেদন: কিস্তিতে (EMI) স্মার্টফোন কিনে সময়মতো টাকা মেটাতে না পারলে নিমেষেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে মোবাইল হ্যান্ডসেট। ঋণদাতা সংস্থাগুলোর ব্যবহৃত বিশেষ 'ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট' প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ফোনের স্ক্রিন ও সার্ভিস। ঋণখেলাপি রোধে এই প্রযুক্তি অর্থায়নকারী সংস্থাদের স্বস্তি দিলেও, গ্রাহকদের সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
দোকান থেকে ইএমআই-তে ফোন কেনার সময়ই অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো (NBFC) গ্রাহকের সম্মতি সাপেক্ষে মোবাইলে 'মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট' (MDM) বা 'ডিভাইস লক কন্ট্রোলার' ইনস্টল করে দেয়।
- স্বয়ংসক্রিয় অ্যালার্ট: ইএমআই-এর নির্দিষ্ট তারিখের আগে ও পরে গ্রাহকের মোবাইলে পেমেন্ট সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
- সার্ভার থেকে রিমোট লক: কিস্তি খেলাপির কয়েকদিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে ডিজিটাল কমান্ড পাঠিয়ে ফোনটি লক করে দেওয়া হয়।
- সীমিত অ্যাক্সেস: ফোন লক থাকা অবস্থায় ব্যবহারকারী অন্য কোনো অ্যাপ বা সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন না। কেবল জরুরি নম্বর (Emergency Call) ডায়াল করা এবং বকেয়া মেটানোর পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
সুফল বনাম গ্রাহক ভোগান্তি
ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর দাবি, স্মার্টফোনের মতো সহজে বহনযোগ্য সম্পদের ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল রিকভারি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল। এই ডিজিটাল লকিং প্রযুক্তির ফলে অনাদায়ী ঋণের (NPA) পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি, পূর্বে কোনো সিবিল (CIBIL) বা ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা সত্ত্বেও বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহক কম ঝুঁকিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে মুদ্রার অন্য পিঠও রয়েছে। ব্যাংক বা সার্ভারের কারিগরি জটিলতার কারণে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট দিনে টাকা না কাটলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে সময়মতো টাকা দিতে চেয়েও জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা বা কাজের প্রয়োজনে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন অনেক গ্রাহক।
গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি
ডিভাইস লকিং অ্যাপগুলোকে ফোনে সর্বোচ্চ স্তরের 'অ্যাডমিন পারমিশন' দিতে হয়। এর ফলে গ্রাহকের ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, অনিয়ন্ত্রিত থার্ড-পার্টি অ্যাপের ক্ষেত্রে সাইবার হামলার ঝুঁকিও থেকে যায়।
গ্রাহকদের জন্য সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইএমআই-তে ফোন কেনার সময় চুক্তির শর্তাবলী ও ডিভাইস লকিং সংক্রান্ত নীতি মনোযোগ সহকারে পড়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ব্যাংকে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রেখে 'অটো-ডেবিট' চালু রাখা এবং অফলাইনে কিস্তি মেটানোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল বা কাগজের রসিদ সংরক্ষণ করা আবশ্যক।


