ভিউস নাউ ডেস্ক — রোদে পোড়া তামাটে চামড়া, শক্ত কালশিটে পড়া হাত আর চোখেমুখে কয়েক দশকের চেপে রাখা ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি। যে হাতে ধান ফোটে আর যে হাত কারখানার চাকা ঘুরায়—আজ সেই হাতগুলো মিলেমিশে এক হয়ে উঠেছে কঠিন মুষ্টিতে। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার (SKM) যৌথ ডাকে আজ দেশের কোণায় কোণায় আছড়ে পড়ল এক অভূতপূর্ব ‘জেল ভরো’ ও পথ অবরোধ আন্দোলন।
"পেটে ক্ষুধা, মাথায় ঋণ: আর কত সইবে দেশের অন্নদাতা?"
পাঞ্জাবের ধুলোউড়ানো মাঠ থেকে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ সড়ক, তামিলনাড়ুর শিল্পাঞ্চল থেকে হরিয়ানার সীমানা—দেশের ১,০০০টিরও বেশি স্থানে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় নেমে আসেন অগণিত মানুষ। পুলিশের হাতে ধরা দিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় বৃদ্ধ কৃষকদের চোখে জল ছিল না, ছিল অধিকার হারানোর তীব্র যাতনা।
"মাঠে ফসল ফলালে তার ন্যায্য দাম পাই না, আর কারখানায় খাটালে আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কি তবে কর্পোরেটের কাছে সস্তা চুক্তির দাসত্বেই বিক্রি হয়ে যাবে?" — আন্দোলনের মিছিলে শামিল এক বর্ষীয়ান কৃষকের এই প্রশ্ন আজ কোটি কোটি শ্রমজীবী ভারতীয়র বুকচাপা আর্তনাদ।
যে ব্যথায় আজ জ্বলছে রাজপথ:
- চারটি শ্রম কোড বাতিলের তীব্র দাবি: শ্রমিকদের দীর্ঘ ১৫০ বছরের লড়াইয়ে পাওয়া ৮ ঘণ্টার কাজের অধিকার, ইউনিয়নের আইনি সুরক্ষা ও ছাঁটাই বন্ধের নিয়ম ফিরিয়ে আনার দাবি।
- ফসলের আইনি এমএসপি (MSP) সুনিশ্চিত করা: স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মেনে সকল ফসলের জন্য 'C2+50%' সূত্রে আইনি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তা।
- মহাজনি ও ব্যাংক ঋণের নাগপাশ থেকে মুক্তি: আত্মহত্যার পথ থেকে কৃষকদের বাঁচাতে এককালীন সম্পূর্ণ ঋণ মকুবের দাবি।
- ন্যূনতম সম্মানজনক মজুরি: লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির দিনে শ্রমিক ও কৃষিমজুরদের বেঁচে থাকার মতো নূন্যতম নির্দিষ্ট মজুরি নিশ্চিত করা।
ক্ষেত ও কারখানার এক অভূতপূর্ব মিলন
ইতিহাসে খুব কম সময়ই দেখা গেছে কারখানার নীল শার্টের শ্রমিক আর ক্ষেতের ধুতি পরা কৃষক এভাবে একই শ্লোগান দিচ্ছেন। ‘মজদুর-কিষাণ একতা’র এই মেলবন্ধন প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ গ্রাম আর শহর আলাদা নয়। পুলিশের গাড়ি ভরে গেলেও থামানো যায়নি স্লোগান—"লাঠি মারো বা জেলে ভরো, আমাদের অধিকার আমরা ছিনিয়ে নেবই!"
আজকের এই দেশব্যাপী 'জেল ভরো' কর্মসূচি শুধুই একটি প্রতিবাদ নয়; এ হলো আগামী দিনে এক বিশাল ঝড়ের পূর্বাভাস। আন্দোলনকারী নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে রাজধানী দিল্লির সীমান্তে আবার শুরু হতে চলেছে দীর্ঘমেয়াদী 'মহাপড়াও' বা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি।






