নিজস্ব সংবাদদাতা:
হাঁসিতে জীবন কুণ্ডুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের তীব্র দমনপীড়নের কড়া ভাষায় নিন্দা জানাল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র রাজ্য কমিটি ।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট হিসারের সূর্য নগরে একদল দুষ্কৃতী জীবন কুণ্ডুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই নৃশংস ঘটনার পর সমগ্র এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি এখন পর্যন্ত নিহত যুবকের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তের সঙ্গে রাজ্যের শাসক দলের এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যার কারণে পুলিশ এখনও প্রধান আসামীদের গ্রেপ্তার করছে না।
এই ঘটনার প্রতিবাদে হাঁসি ও হিসার জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ, যার মধ্যে উল্লেখ যোগ্যসংখ্যক মহিলাও ছিলেন, এক প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসামীদের গ্রেপ্তার না হওয়ার জবাব চাইতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে গ্রামবাসীদের ক্ষোভ প্রশমন করার পরিবর্তে রাজ্য প্রশাসন পুলিশি দমনের পথ বেছে নেয়।
আন্দোলনকারীদের ওপর বর্বর লাঠিচার্জ করা হয় এবং তাঁদের গাড়ি ও ট্রাক্টর ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে এবং একে-৪৭ (AK-47) বন্দুক উঁচিয়ে ভয় দেখাতে দেখা গেছে। এ ছাড়া সাদা পোশাকের বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করেছে।
ঘটনায় বেশ কয়েকজন শীর্ষ কৃষক নেতাসহ বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিষাণ সভার রাজ্য সভাপতি মাস্টার বলবীর সিংকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ই গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা সুরেশ কোথ, সমশের নম্বরদার, সুমিত দালাল, শ্রদ্ধানন্দসহ অন্যান্য নেতাদের গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লাঠিচার্জে আহত কিষাণ সভার জেলা সম্পাদককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সিপিআই(এম)-এর প্রধান দাবিগুলি:
- অবিলম্বে গ্রেপ্তার: জীবন কুণ্ডুর আসল খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
- নেতাদের মুক্তি: গ্রেপ্তার করা সমস্ত কৃষক নেতা ও আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে অনশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
- যানবাহন ফেরত: পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি ও ট্রাক্টরগুলি অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।
- বিচার বিভাগীয় তদন্ত: পুলিশি লাঠিচার্জ এবং ভাঙচুরের পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে এবং দোষী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।




