কলকাতা, ২০ আগস্ট: ফেটসু (FETSU)-র জেনারেল বডি (GB) মিটিংকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টিতে সভা চলাকালীন বহিরাগতদের প্রবেশ, পড়ুয়াদের উপর হামলা এবং অরবিন্দ ভবন ঘিরে উত্তেজনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বহিরাগত প্রবেশ ও পড়ুয়াদের উপর হামলার অভিযোগ
আক্রান্ত পড়ুয়া ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, GB মিটিং চলাকালীন NSF, ABVP এবং বিজেপি-আরএসএস ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের একটি বড় দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তাঁদের দাবি, কয়েকজন পড়ুয়ার পরিচয় ও নাম জিজ্ঞাসা করে গালিগালাজ এবং মারধর করা হয়।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ABVP-র পাল্টা দাবি, নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে GB মিটিং আয়োজনের প্রতিবাদ করায় তাঁদের কর্মীদের উপরই হামলা চালানো হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ঘটনায় অন্তত চারজন কর্মী আহত হয়েছেন।
অরবিন্দ ভবন ঘিরে উত্তেজনা
ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির একটি উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনকে ঘিরে। পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, ভবনের কোলাপসিবল গেট বন্ধ করে তাঁদের ভিতরে আটকে রাখা হয়। সেই সময় ভবনের দিকে জ্বলন্ত বস্তু এবং ইট-পাটকেল ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আটকে পড়া পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।
মেইন হোস্টেলে হামলার অভিযোগ
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাদবপুর থানা সংলগ্ন মেইন হোস্টেল এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়ায়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, বাইকে করে আসা একদল ব্যক্তি হোস্টেলে ঢুকে লাঠি, রড-সহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালায়। একাধিক ছাত্র শারীরিকভাবে আক্রান্ত হন বলেও অভিযোগ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোস্টেল চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়।
আহত একাধিক, হাসপাতালে চিকিৎসা
সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান স্থানীয় বিজেপি বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসা ও ঘটনার তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।
যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ
ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতে যাদবপুর থানার সামনে ABVP সমর্থকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, সাধারণ পড়ুয়াদের একাংশের প্রশ্ন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা কেন যথেষ্ট কার্যকর ছিল না।
তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, বহিরাগতদের প্রবেশ এবং হোস্টেলে হামলার অভিযোগকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে।
এখন নজর থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। একইসঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ওঠা হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগগুলি কতটা সত্য, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।


