ভিউস নাও ডেস্ক: তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তিউনিসিয়ায় আবারো গণবিক্ষোভের ঝড় উঠেছে। প্রেসিডেন্ট কায়িস সাঈদের (Kais Saied) পদত্যাগ এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজধানী তিউনিসের রাজপথে নেমে এসেছেন শত শত আন্দোলনকারী। খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট, প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে চরম পানি-বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান আকর্ষণসমূহ:
- 'নাফাস' জোটের নেতৃত্বে আন্দোলন: বিরোধী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন জোট 'নাফাস' (Nafas movement) এই গণমিছিলের আয়োজন করে।
- রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবি: কারারুদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী এবং সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির জোরালো দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।
- ‘আরব বসন্তের’ প্রতিধ্বনি: তিউনিসের রাজপথে বিক্ষোভকারীরা "জনগণ এই শাসনব্যবস্থার পতন চায়" বলে স্লোগান তোলেন, যা ২০১১ সালে স্বৈরাচারী শাসক বেন আলীকে উৎখাতকারী ঐতিহাসিক আরব বসন্তকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ ও গণতন্ত্রের সংকট
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট সাঈদ ২০২১ সালের জুলাই মাসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকার বরখাস্ত ও পার্লামেন্ট স্থগিত করেন এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে পার্লামেন্ট ও শীর্ষ বিচার বিভাগীয় পরিষদ বিলুপ্ত করে অধ্যাদেশের মাধ্যমে একক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Al-Monitor ও Democracy Now! -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাগরিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণের ফলে তিউনিসিয়ার পরিস্থিতি বর্তমানে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে।
ইউটিলিটি সংকট ও গণঅসন্তোষ
রাজনৈতিক বিরোধীদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক ও তরুণ সমাজও এবার রাজপথে শামিল হয়েছেন। গ্রীষ্মের রেকর্ড তাপদাহে তিউনিসিয়ার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের চরম সংকট ও নাগরিক পরিষেবায় চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ তিউনিসীয়রা এখন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগকেই একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন।
একসময় আরব বিশ্বের একমাত্র সফল গণতান্ত্রিক মডেল হিসেবে প্রশংসিত তিউনিসিয়া আজ গভীর অর্থনৈতিক মন্দা ও বিনিয়োগহীনতায় জর্জরিত। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ সাঈদ সরকারের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।


