" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory জর্জ জ্যাকসন: যে মানুষটাকে আমেরিকা ভয় পেয়েছিল //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

জর্জ জ্যাকসন: যে মানুষটাকে আমেরিকা ভয় পেয়েছিল



৭১ ডলারের ডাকাতির অভিযোগ থেকে বিপ্লবী প্রতীকে পরিণত হওয়ার ইতিহাস

মাত্র ১৯ বছর বয়স। জীবন তখন সবে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ১৯৬১ সালে একটি পেট্রোল স্টেশন থেকে ৭১ ডলার ডাকাতির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন জর্জ লেস্টার জ্যাকসন। আদালতের রায়ে তাঁর শাস্তি হলো—১ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অর্থাৎ মুক্তির সময় নির্দিষ্ট নয়; প্রতি বছর প্যারোলের আশায় অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু যে কারাগার তাঁকে বন্দি করেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই কারাগারই তাঁকে গড়ে তুলেছিল এক তীব্র রাজনৈতিক চিন্তক ও বিপ্লবী লেখকে।

কারাগারই হয়ে উঠেছিল তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়

জর্জ জ্যাকসন দীর্ঘ ১১ বছর কারাগারে কাটান। কারাবন্দি অবস্থায় তিনি মার্ক্স, লেনিন, মাও সেতুং এবং ফ্রাঁৎজ ফানোঁ-সহ বিভিন্ন বিপ্লবী ও রাজনৈতিক চিন্তকের লেখা পড়েন।

কারাগারের নিঃসঙ্গতা, বর্ণবৈষম্য এবং বন্দিদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে। তিনি যুক্তি দিতে শুরু করেন যে আমেরিকার কারা ব্যবস্থা শুধু অপরাধ দমনের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বর্ণ ও শ্রেণিগত বৈষম্যের বৃহত্তর কাঠামোর অংশ।

এই সময় তাঁর লেখা চিঠি ও রাজনৈতিক বক্তব্য কারাগারের বাইরে পৌঁছতে শুরু করে।

‘সোলেদাদ ব্রাদার্স’ এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত

১৯৭০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সোলেদাদ স্টেট প্রিজনে এক কারারক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় জর্জ জ্যাকসন, ফ্লিটা ড্রামগো এবং জন ক্লুচেত্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাঁরা পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘Soledad Brothers’ নামে।

মামলাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ও বামপন্থী মহলের একাংশ অভিযোগ তোলে যে কারাবন্দি কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

জ্যাকসন ইতিমধ্যেই হয়ে উঠেছিলেন কারাগারের ভেতরে রাজনৈতিক সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর সঙ্গে Black Panther Party-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং দলটির অন্যতম নেতা হুয়ে পি. নিউটন তাঁকে ‘Field Marshal’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

‘Soledad Brother’: কারাগার থেকে বিশ্বমঞ্চে

১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয় জর্জ জ্যাকসনের চিঠির সংকলন Soledad Brother: The Prison Letters of George Jackson

বইটিতে রয়েছে তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সমাজ এবং আমেরিকার বর্ণবাদী ও কারা-ব্যবস্থা নিয়ে লেখা চিঠি। ব্যক্তিগত যন্ত্রণা, রাজনৈতিক ক্ষোভ এবং বিপ্লবী চিন্তার মিশ্রণে বইটি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

জ্যাকসনের লেখার মাধ্যমে আমেরিকার কারাগারের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। তাঁর কাছে কারাগার ছিল শুধু বন্দিত্বের স্থান নয়—বরং আমেরিকার সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের একটি প্রতীক।

২১ আগস্ট ১৯৭১: সান কোয়েন্টিনে মৃত্যু

১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট, ক্যালিফোর্নিয়ার সান কোয়েন্টিন স্টেট প্রিজনে বন্দিদের মধ্যে এক সহিংস ঘটনার সময় জর্জ জ্যাকসন নিহত হন। তাঁর বয়স তখন মাত্র ৩০।

কারা কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, জ্যাকসন একটি অস্ত্র নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তাঁর সমর্থকরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখেছিলেন।

জ্যাকসনের মৃত্যু মার্কিন বামপন্থী ও কৃষ্ণাঙ্গ মুক্তি আন্দোলনের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

আটিকা বিদ্রোহ: মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পর

জ্যাকসনের মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের Attica Correctional Facility-তে বন্দিরা বিদ্রোহ করেন।

বন্দিরা কারাগারের পরিস্থিতি, বর্ণবাদী আচরণ এবং বন্দিদের অধিকার নিয়ে একাধিক দাবি উত্থাপন করেন। কয়েক দিনের অচলাবস্থার পর পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের অভিযানে বিদ্রোহ দমন করা হয়। ঘটনায় বন্দি ও কারারক্ষীসহ বহু মানুষ নিহত হন।

জ্যাকসনের নাম ও তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা সেই সময় বন্দিদের আন্দোলনের প্রতীকী পরিসরে উপস্থিত ছিল।

মৃত্যুর পরও অব্যাহত তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় জর্জ জ্যাকসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক গ্রন্থ, Blood in My Eye। বইটিতে বিপ্লব, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, বর্ণবাদ এবং রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে তাঁর চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়।

জর্জ জ্যাকসনের জীবন ছিল মাত্র ৩০ বছরের। কিন্তু তাঁর কারাবন্দিত্ব, লেখা এবং মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক তাঁকে মার্কিন কারা-ব্যবস্থা ও কৃষ্ণাঙ্গ মুক্তি আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত করে।

একজন ১৯ বছরের তরুণ, যিনি ৭১ ডলারের ডাকাতির অভিযোগে কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছিলেন এমন এক রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর, যার লেখা কারাগারের দেয়াল পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল সারা পৃথিবীতে।

জর্জ লেস্টার জ্যাকসন (১৯৪১–১৯৭১)—একটি জীবন, যা শেষ হয়েছিল বন্দুকের গুলিতে; কিন্তু যার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আজও ইতিহাসের আলোচনায় ফিরে আসে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies