" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory পুণের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’: পিতৃতন্ত্র ও প্রশ্নফাঁস বিরোধী গর্জন, নাকি বুর্জোয়া রাজনীতির নতুন মোড়ক? //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

পুণের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’: পিতৃতন্ত্র ও প্রশ্নফাঁস বিরোধী গর্জন, নাকি বুর্জোয়া রাজনীতির নতুন মোড়ক?

 



বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ | ভিউজ নাও (Views Now)

মহারাষ্ট্রের শিক্ষানগরী পুণের এআইএসএসএমএস (AISSMS) মাঠে আয়োজিত কংগ্রেসের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গোঞ্জ’ কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চর্চা তৈরি হয়েছে। প্রায় ১৫,০০০ তরুণী ও নারী শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একদিকে শাসকদল বিজেপি যেমন একে ‘পয়সে কি গুঞ্জ’ বলে কটাক্ষ করেছে, অন্যদিকে পুলিশ চাপিয়েছিল কড়া শর্তাবলী।  ঘটনাটির আগের রাতে সিওইপি (COEP) হোস্টেলে এনএসইউআই (NSUI) ও এবিভিপি-র (ABVP) সংঘর্ষও তৎকালীন রাজনৈতিক উত্তাপকে স্পষ্ট করে তুলেছিল। কিন্তু দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে যদি ঘটনাটিকে বিশ্লেষণ করা যায়, তবে মূল প্রশ্নটি দাঁড়ায়: রাহুল গান্ধী কি সত্যিই ভারতের তরুণী ও শিক্ষার্থীদের গভীর কাঠামোগত সমস্যার কোনো বিকল্প অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমাধান উপস্থাপন করতে পেরেছেন, নাকি এটি কেবল নির্বাচনী প্রচারের একটি পরিকল্পিত রূপরেখা?

বাস্তব সংকটের মুখোমুখি শিক্ষার্থীরা: প্রশ্নফাঁস, হোস্টেল ও ‘নিরাপত্তা কর’

The Hindu-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুণের এই অনুষ্ঠানটির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছিল তরুণী শিক্ষার্থীদের। উন্মুক্ত মঞ্চে শিক্ষার্থীদের হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেওয়ার ফলে কতগুলো অত্যন্ত জরুরি ও বাস্তবিক সংকট প্রকাশ্যে আসে:

  • এমপিএসসি (MPSC) প্রশ্নফাঁস ও ‘বিয়ের ডেডলাইন’: মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা বাতিলের ফলে তরুণী প্রার্থীদের ওপর তৈরি হওয়া দ্বিগুণ সামাজিক চাপের কথা তুলে ধরেন এক চাকরিপ্রার্থী। রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেন যে, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও প্রশ্নফাঁসের কারণে পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, কারণ পরিবার থেকে তাঁদের ওপর নির্দিষ্ট "বিয়ের সময়সীমা" চাপিয়ে দেওয়া হয়।

  • আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও হোস্টেল সংকট: পুণের মাঞ্জরিতে সরকারি উপজাতি হোস্টেলের নিয়মকানুনের (যেমন ৩০ বছরের বয়সের সীমা ও দীর্ঘ ছুটির পর ফিটনেস সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা) বিরুদ্ধে ১০ দিন ধরে অনশনরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের কথা তুলে ধরেন এক ছাত্রী। Hindustan Times-এর তথ্যানুসারে, রাহুল গান্ধী তাঁদের এই অনশনস্থলে যাওয়ার আশ্বাসের মাধ্যমে সমস্যার নীতিগত গভীরতা স্বীকার করেন।

  • অর্থনৈতিক সহিংসতা ও ‘নিরাপত্তা কর’: বক্তৃতায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার তিনটি ধরন— প্রত্যক্ষ শারীরিক সহিংসতা, অধিকার ও সুযোগ বঞ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক সহিংসতা তুলে ধরা হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও গণপরিবহনের অভাবে নারীদের যাতায়াত ও সুরক্ষায় যে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয় (যাকে তিনি ‘সেফটি ট্যাক্স’ বা নিরাপত্তা কর হিসেবে অভিহিত করেন), তা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে লিঙ্গসাম্যের পথে বড় বাধা।

বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি: 


১. প্রতিক্রিয়াশীল ভাবাদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান:
আরএসএস ও বিজেপির পিতৃতান্ত্রিক ভাবাদর্শ এবং মনুস্মৃতি কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর সমালোচনা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারী মেয়েদের ভাষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘কালচারাল শক’ মন্তব্যকে আক্রমণ করে তিনি দেখান কীভাবে শাসকদল পুরুষতান্ত্রিক নীতি-পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। "নারী কারো সম্পত্তি নয়, সে কেবল নিজের"— এই বক্তব্য ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সামাজিক অধিকারের ক্ষেত্রে সদর্থক বার্তা দেয়।

২. অর্থনৈতিক ভিত্তি ও নব্য-উদারনীতির নীরবতা:
The Times of India-র সংবাদে উঠে আসা শিক্ষা ও নিয়োগ পদ্ধতির বাণিজ্যিকীকরণের বাস্তব চিত্র কিন্তু কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্নফাঁসের বেপরোয়া র্যাকেট, রাষ্ট্রীয় হোস্টেলের অপর্যাপ্ত বাজেট কিংবা সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষার মতো আধুনিক কোর্সের অস্বাভাবিক ফি— এগুলির আসল উৎস নিহিত রয়েছে শিক্ষার সার্বিক বাণিজ্যিকীকরণ ও বেসরকারীকরণের নব্য-উদারবাদী নীতিতে। নব্বইয়ের দশকে যে মুক্তবাজারি নীতির সূচনা করেছিল বুর্জোয়া দলগুলো, আজ বিজেপি সরকার তা চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। অথচ রাহুল গান্ধী মনুস্মৃতি ও পিতৃতন্ত্রকে আক্রমণ করলেও, উচ্চশিক্ষার অবাধ্য বাণিজ্যিকীকরণ ও সংকোচনের এই পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থেকেছেন।

নির্বাচনী কৌশল বনাম স্থায়ী সমাধান

মহারাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তরুণ ও নারী সংবেদনশীল অংশকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এই ধরণের নাগরিক সংলাপ কংগ্রেসের জন্য একটি কার্যকরী রাজনৈতিক কৌশল। কিন্তু কোনো নীতিগত ও আইনি রূপরেখা ছাড়া কেবল বিরোধীদের সমালোচনা কিংবা সহানুভূতি প্রকাশ করা শিক্ষার্থীদের কাঠামোগত পরিবর্তন এনে দিতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলোতে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বা শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো বৈপ্লবিক মডেল এখনো তুলে ধরা যায়নি।


পুণের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি ভারতের তরুণী ও শিক্ষার্থীদের বাস্তব সামাজিক ও প্রশাসনিক সংকটগুলোকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে এনে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু শ্রেণিশোষণ ও নব্য-উদারবাদী শিক্ষা কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া কেবল ব্যালট বাক্সের সমীকরণে ছাত্রসমাজের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে সার্বজনীন করতে এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজন নব্য-উদারবাদী নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিজেদের সুসংগঠিত গণআন্দোলন।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies