বিবিসি নিউজ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক কানাডীয় গাড়ি, যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত ৫০% শুল্ক আরোপের জবাবে কানাডা এক বিশাল পাল্টা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপ দিচ্ছে।
নির্দিষ্ট পাল্টা পদক্ষেপসমূহ
- সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক (Dollar-for-Dollar Duties): কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নিশ্চিত করেছেন যে, অটোয়া মার্কিন রফতানি পণ্য বিশেষ করে ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ইলেকট্রনিক্স খাতকে লক্ষ্য করে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সারচার্জ: অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সহ প্রাদেশিক নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মিশিগানের মতো অটো-নির্ভর সীমান্ত রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত সারচার্জ আরোপ বা সরবরাহ সীমিত করার বিকল্পটি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
- কাঁচামাল ও সম্পদ সরবরাহে কড়াকড়ি: ফেডারেল ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি অপরিশোধিত খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কৃষি পটাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান
- মার্কিন শিল্প খাতের কর্মসংস্থানকে লক্ষ্যবস্তু: আন্তঃসীমান্ত সরবরাহ শৃঙ্খলকে (supply chain) লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে অটোয়া সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অটো-নির্ভর রাজ্যগুলোর উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে গাড়ি তৈরির যন্ত্রাংশ উৎপাদনে সীমান্ত বারবার ব্যবহৃত হয়।
- পারিবারিক খরচ বৃদ্ধি: বিশ্লেষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন বাণিজ্য শুল্ক, বিদ্যুৎ সারচার্জ এবং কাঁচামাল সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর বাৎসরিক খরচ গড়ে প্রায় ১,১০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- সম্পদের প্রাধান্যকে কাজে লাগানো: জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহে শীর্ষ ভূমিকা রাখার দরুন উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খল ও নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাধান্যকে কানাডা প্রধান কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।


