তারকেশ্বর: হুগলির তারকেশ্বরে গভীর রাতে সিপিআই(এম) পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গতকাল রাতে তারকেশ্বর ২ নম্বর এলাকা কমিটির অন্তর্গত নারিকেল তলা এলাকার সিপিআই(এম) পার্টি অফিসে আগুন লাগায় দুষ্কৃতীরা। অগ্নিকাণ্ডে কার্যালয়ে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কাগজপত্র ও আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এই হামলার পেছনে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জড়িত বলে সোচ্চার হয়েছে বাম নেতৃত্ব।
ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ
কয়েক দিন আগেই পুড়শুড়া দক্ষিণ এরিয়া পার্টি অফিস সহ আশেপাশের একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল এবং রাতের অন্ধকারে এক সিপিআই(এম) নেত্রীর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তারকেশ্বরে একই কায়দায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটল।
সংগ্রামের ইতিহাস বনাম গুন্ডারাজ
বাম নেতৃত্বের দাবি, প্রতিটি পার্টি অফিস গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে বহু লড়াকু মানুষের ঘাম, ত্যাগ ও সাধারণ মানুষের অবদান। জোর করে জায়গা দখল করে রাতারাতি এই অফিসগুলো তৈরি হয়নি। সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, অতীতে তৃণমূলের আমলে এক দিনে ১৫০০ পার্টি অফিস ভাঙার নেপথ্যে থাকা নেতৃত্বের একটি অংশ আজ বিজেপির ধ্বজাধারী। চোর ও দুষ্কৃতীদের ছত্রছায়া দিয়ে বিজেপি এখন এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়াচ্ছে।
জনমত ও প্রতিরোধের প্রস্তুতি
পার্টি অফিসে হামলা চালিয়ে বামপন্থীদের রোধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব:
- পুড়শুড়ার উদাহরণ: পুড়শুড়ায় কার্যালয় ভাঙচুরের পরও দমে না গিয়ে সেই ভগ্নস্তূপেই পরের দিন স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং পরবর্তীতে জাঁকজমকপূর্ণ রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
- তারকেশ্বরের প্রতিক্রিয়া: নারিকেল তলার ঘটনা চাউর হতেই ভোরবেলা থেকেই এলাকায় সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা একত্রিত হতে শুরু করেছেন।
রাতের অন্ধকারে চুরি-ডাকাতির স্টাইলে হামলা চালানো বিজেপি ও আরএসএস-এর রাজনৈতিক ভীতি ও দুর্বলতারই প্রমাণ দেয় বলে মত স্থানীয় কর্মীদের। ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আবার পুনর্নির্মাণ করার এবং এই হিংসার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে সিপিআই(এম)।




