বিশেষ সংবাদদাতা, বিশকেক:
মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিরতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শুরু হয়েছে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৬তম রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন। সংস্থার বর্তমান সভাপতি ও কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতি সাদির জাপারোভের আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনসহ সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন।
এসসিও-র ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই দ্বি-দিবসীয় সম্মেলনটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং এশীয় অঞ্চলে সংযোগ (connectivity) বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ও অগ্রাধিকার
- আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতা:সম্মেলনের প্রথম দিনে মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ইউরেশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা। সদস্য দেশগুলো সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়া তাসখন্দ-ভিত্তিক 'আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামো' (RATS)-কে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- স্থানীয় মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ব্যাংক প্রতিষ্ঠা:পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটাতে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজ করতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় আর্থিক লেনদেন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এসসিও ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর (INSTC)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
- জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা:সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ক্লিন এনার্জি প্রযুক্তি রূপান্তর, ডিজিটাল অবকাঠামো বিনিময় এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ বিনিয়োগের একাধিক প্রস্তাব টেবিলে আনা হয়েছে।
কূটনৈতিক সক্রিয়তা ও নেতাদের অবস্থান
| রাষ্ট্রপ্রধান / প্রতিনিধি | প্রধান কৌশলগত বার্তা |
| নরেন্দ্র মোদী (ভারত) | নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সীমান্ত সন্ত্রাস রোধ এবং মধ্য এশিয়ার সাথে সরাসরি বাণিজ্য পথ উন্মুক্ত করা। |
| শি জিনপিং (চীন) | এসসিও উন্নয়ন কৌশলগত পরিকল্পনা (২০২৬–২০৩৫) বাস্তবায়ন এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি। |
| ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়া) | ইউরেশীয় বাণিজ্য করিডোর শক্তিশালী করা এবং বহুমাত্রিক বিশ্বব্যবস্থা (Multipolar World) গড়ে তোলা। |
| মাসুদ পেজেশকিয়ান (ইরান) | আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটে স্বকীয়তা বজায় রাখা ও মধ্যপ্রাচ্য-মধ্য এশিয়া বাণিজ্য বাড়ানো। |
'বিশকেক ঘোষণা' ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
সম্মেলনের অন্তিম দিনে গ্রহণ করা হবে ঐতিহাসিক 'বিশকেক ঘোষণা' (Bishkek Declaration)। এই ঘোষণাপত্রে আগামী দশকের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং কৌশলগত সুরক্ষার একটি সম্মিলিত রোডম্যাপ প্রকাশিত হবে।
এই সম্মেলনের মধ্য দিয়েই কিরগিজস্তান তাদের এক বছরের সভাপতির মেয়াদ সমাপ্ত করবে এবং পরবর্তী বছরের জন্য এসসিও-র নেতৃত্বের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

