" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory রাহুল গান্ধীর ধর্নার জেরে নড়েচড়ে বসল দিল্লি পুলিশ: পেলেটের আঘাতে ছাত্র জখম হওয়ার ঘটনায় অবশেষে এফআইআর //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

রাহুল গান্ধীর ধর্নার জেরে নড়েচড়ে বসল দিল্লি পুলিশ: পেলেটের আঘাতে ছাত্র জখম হওয়ার ঘটনায় অবশেষে এফআইআর

 



নতুন দিল্লি, ২১ আগস্ট ২০২৬: লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর টানা অবস্থানের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল দিল্লি পুলিশ। গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরের কাছে 'কোকরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র 'সংসদ চলো' মিছিলে ১৯ বছর বয়সী ছাত্র সাহিল লোচাবের পেলেট বন্দুকের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে রাহুল গান্ধী দীর্ঘ সময় ধর্নায় বসার পর পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।


অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১১৮ এবং ১২৫ ধারায় এই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। ১১৮ নম্বর ধারাটি বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং ১২৫ নম্বর ধারাটি অপরের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করার অপরাধের সাথে সম্পর্কিত। তবে এফআইআরে এখনও কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

শরীরে ২০০টিরও বেশি পেলেট, দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'স্কুল অব ওপেন লার্নিং'-এর ছাত্র ও নাজাফগড়ের বাসিন্দা সাহিল লোচাব অভিযোগে জানান, ২০ জুলাই সংসদের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় তিনি ভিড়ের সামনের সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময়ই ধাতব পেলেট এসে তাঁর গায়ে লাগে। সাহিলের বিবরণ অনুযায়ী, "নীল পোশাক পরা এক ব্যক্তি একটি বড় বন্দুক থেকে পরপর পেলেট ছুড়ছিল।"


লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও এইমস (AIIMS) ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাহিলের শরীরে ২০০টিরও বেশি পেলেট আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি পেলেট তাঁর ডান চোখে বিঁধেছে। চিকিৎসকদের মতে, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর সম্ভাবনা ১ শতাংশেরও কম। এছাড়া হূৎপিণ্ড ও অপটিক নার্ভের সংবেদনশীল জায়গায় থাকা পেলেটগুলো অস্ত্রোপচার করে বের করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা সম্ভব নয়।


থানার বাইরে রাহুল গান্ধীর দীর্ঘ অবস্থান


শুক্রবার সকালে সাহিল ও তাঁর মা জ্যোতিকে সাথে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পৌঁছান রাহুল গান্ধী। পুলিশ শুরুতেই পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে এফআইআর নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী থানার বাইরেই ধর্নায় বসে পড়েন এবং সাফ জানান, এফআইআর দায়ের না হওয়া পর্যন্ত তিনি সরবেন না। পরবর্তীতে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ একাধিক শীর্ষ নেতা এই ধর্নায় যোগ দেন।


সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী সাহিলের শরীর থেকে উদ্ধার হওয়া পেলেট দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন:

"ওর চোখে ৩টি এবং শরীরে ২০০টি পেলেট গেঁথে রয়েছে। হূৎপিণ্ডের কাছে থাকা পেলেটগুলো বের করা যাচ্ছে না। দিল্লি পুলিশ বলছে তারা পেলেট গান চালায়নি। তাহলে পুলিশ না চালালে গুলি চালাল কে?"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ কর্তারা তাঁদের জানিয়েছিলেন যে ওপরের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এফআইআর করা সম্ভব নয় এবং এর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমতির প্রয়োজন ছিল।


'বিচারের লাগাম কার হাতে, এখন স্পষ্ট'

এফআইআর দায়ের হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ রাহুল গান্ধী লেখেন:

"সাহিলের এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। এটি ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রথম ধাপ। কিন্তু ভেবে দেখুন — একটি এফআইআর লেখার অনুমতির জন্যও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দিকে তাকিয়ে থাকতে হলো। এখন পরিষ্কার যে বিচারের লাগাম কার হাতে রয়েছে।"

সাহিলের মা জানান, আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই তাঁরা এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘুরছেন। গত ১৪ আগস্ট লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও শুক্রবারের আগে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত প্রতিবাদে গত ২০ জুলাইয়ের ওই ছাত্র মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও পেলেট গান চালানোর দাবি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছিল।


বর্তমানে এইমস-এ সাহিলের চিকিৎসা চলছে এবং দিল্লি পুলিশ ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies