কাঠমাণ্ডু ও লাসা: হিমালয়ে হিমবাহ ধসের (Glacier Collapse) কারণে নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে সৃষ্ট নজিরবিহীন হড়পা বান এবং কাদামাটির ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ৩,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকশো বিদেশি পর্যটক এবং কৈলাস মানসসরোবরের ভারতীয় তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মূল বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি:
- গত বুধবার সকালে হিমালয় সীমান্তে হঠাৎ একটি বিশাল বরফ ও পাথরের চাঁই ভেঙে লেন্দে খোলা (Lhende Khola) নদীতে পড়ে। এর ফলেই নদীর জলস্তর প্রায় তিনতলা বাড়ির সমান উচ্চতায় পৌঁছে হুড়মুড়িয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সংলগ্ন একের পর এক গ্রাম।
- নেপালের রসুয়া, ধাদিং, নুয়াকোট এবং গোর্খা জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে。 নদী উপত্যকার অন্তত ১৯টি সেতু এবং ৪০ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে।
- তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও (Gyirong County) এই বন্যার জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্ত চেকপোস্টের মূল ভবনটি জলের তোড়ে ভেসে গেছে।
উদ্ধারকাজ ও পশ্চিমবঙ্গের উদ্বেগ:
উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপাল সেনাবাহিনী এবং চিনের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং স্নিফার ডগ নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় জমে থাকা পুরু কাদা এবং অনবরত বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপাল সেনাবাহিনী এবং চিনের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং স্নিফার ডগ নিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় জমে থাকা পুরু কাদা এবং অনবরত বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রাজ্য থেকে বেড়াতে যাওয়া বহু পর্যটকের খোঁজে কলকাতার ট্রাভেল এজেন্সিগুলির অফিসে ভিড় করছেন পরিজনেরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলার বেশ কিছু বাসিন্দার এখনও খোঁজ মেলেনি এবং নিখোঁজদের ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

