প্রয়াগরাজ (উত্তর প্রদেশ): দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী ও শ্রমিক অধিকার কর্মী আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA) বাতিল করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত রাজ্য সরকারের দাবিকে "মনগড়া" আখ্যা দিয়ে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয় এবং ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ জারি করে। তবে হাইকোর্টে এই বড় আইনি স্বস্তি পাওয়া সত্ত্বেও আপাতত জেলেই কাটাতে হচ্ছে ২৪ বছর বয়সী এই অধিকার কর্মীকে।
কেন মিলছে না অবিলম্বে মুক্তি?
আইনজীবী ও পুলিশ সূত্রের খবর, শুধু এনএসএ (NSA) প্রতিরোধমূলক আটকাদেশই আকৃতির মুক্তির একমাত্র বাধা ছিল না:
- একাধিক এফআইআর (FIR): ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নোইডার শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আকৃতির বিরুদ্ধে ৫টি পৃথক থানায় মোট ১১টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
- বাকি থাকা জামিন: আকৃতি এ পর্যন্ত ১১টির মধ্যে ৫টি মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
তবে বাকি ৬টি মামলায় এখনও জামিন পাওয়া বাকি রয়েছে। - আইনি বাধ্যবাধকতা: নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলে সবকটি মামলাতেই আলাদাভাবে জামিন পেতে হয়। ফলে এনএসএ (NSA) রদ হলেও বাকি মামলাগুলোতে জামিন না হওয়া পর্যন্ত কাশনা জেল থেকে তাঁর মুক্তি অসম্ভব।
হাইকোর্টের কঠোর পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ ও বিচারপতি অচেল সচদেবের বেঞ্চ শুনানির সময় উত্তর প্রদেশ পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করে জানায়, আকৃতি হিংসায় উসকানি দিয়েছেন এমন কোনো ভিডিও বা শক্ত প্রমাণ সরকার দেখাতে পারেনি। পুলিশ তাকে আটক করার পর সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, ফলে ঘটনায় তাঁর সরাসরি যুক্ত থাকার দাবি ভিত্তিহীন।
আকৃতির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এনএসএ বাতিলের আদেশের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা দ্রুত হাইকোর্টে বাকি ৬টি মামলার জামিনের আবেদন জানাবেন।


