নয়াদিল্লি: দিল্লির জন্তর মন্তরে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের ব্যবহৃত Facial Recognition System (FRS)-এর নির্ভুলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠল। The Indian Express-এর এক অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, পুলিশের ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবস্থায় বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত অন্তত ২৫ জন ব্যক্তি সেই সময় দিল্লির তিহার, মণ্ডোলি বা রোহিণী জেলে বন্দি ছিলেন।
দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, ২০ থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে জন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে তাদের FRS মোট ২,৮৭৩ জনকে শনাক্ত করেছে, যাদের পূর্বে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এই ম্যাচগুলির বেশিরভাগই পুলিশের ‘Crime Kundli’ বায়োমেট্রিক ডেটাবেস এবং অন্যান্য অপরাধ সংক্রান্ত রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে পাওয়া হয়েছিল।
The Indian Express ওই তালিকায় থাকা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ২০৫ জনের নথি পরীক্ষা করে। এর মধ্যে অন্তত ২৫ জনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে তারিখে FRS তাঁদের বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত বলে শনাক্ত করেছে, সেই সময় তাঁরা জেলবন্দি ছিলেন। এই ২৫ জনের মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা, চার জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ—যার মধ্যে POCSO আইনের মামলাও রয়েছে—এবং আরও চার জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ছিল। অনুসন্ধান অনুযায়ী, ভুল শনাক্তকরণের অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে ২৫ জুলাই। এছাড়া ২৪ ও ২৬ জুলাইও কয়েকটি এমন ঘটনা ধরা পড়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে পুলিশের দাবি
পরীক্ষা-প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া ছাত্র বিক্ষোভ সংক্রান্ত FIR বাতিল করার সময় সুপ্রিম কোর্ট ২,৮৭৩ জন শনাক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খোলা রেখেছিল। তবে আদালত একইসঙ্গে বিষয়টি যাচাই করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।
দিল্লি পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, শুধুমাত্র ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে কোনও ব্যক্তির ছবি মিলে যাওয়ার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। পুলিশের বক্তব্য, পরবর্তী পদক্ষেপের আগে মাঠপর্যায়ে যাচাই এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
AI নজরদারি নিয়ে নতুন প্রশ্ন
জুলাইয়ের ওই ছাত্র বিক্ষোভের সময় জন্তর মন্তরের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে AI-চালিত ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা-সহ মোবাইল সার্ভেল্যান্স ভ্যান মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য ছিল, এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য সাধারণ বিক্ষোভকারীদের গণহারে নজরদারি করা নয়; বরং অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিরা বিক্ষোভে ঢুকে পড়েছে কি না, তা শনাক্ত করা।
কিন্তু জেলে থাকা ব্যক্তিদের বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা সামনে আসায় প্রযুক্তিটির নির্ভুলতা, false positive-এর হার এবং ভিড়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় মুখ শনাক্তকরণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দেওয়া ম্যাচের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার গুরুতর পরিণতি হতে পারে। ফলে FRS-এর ফলাফলকে স্বাধীনভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দিল্লি পুলিশ অবশ্য জোর দিয়ে বলেছে, সফটওয়্যারের ফলাফলকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। শারীরিক যাচাই, নথিপত্র এবং অন্যান্য corroborative evidence-এর ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে The Indian Express-এর অনুসন্ধানে একই ব্যক্তিকে এমন সময়ে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত দেখানোর ঘটনা, যখন তাঁরা জেলে ছিলেন, দিল্লি পুলিশের স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।


