মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে মারাত্মক হামলার মুখে পড়লেন বামপন্থী আইনজীবী সেলের সদস্যরা। অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্ট ও মেদিনীপুর আদালতের আইনজীবীদের প্রতিনিধি দলের ওপর রড, শাবল ও বাঁশ নিয়ে তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। এতে ৪টি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং বেশ কয়েকজন আইনজীবী আহত হন।
ঘটনার সূত্রপাত ও আক্রমণ
সম্প্রতি গড়বেতা-১ ব্লকের বেনাচাপড়া ও খড়্কুশমা এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে একাধিক বাম কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর হয় ও বেশ কিছু পরিবার ঘরছাড়া হয়ে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিতে যান কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী শামিম আহমেদসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে ধাদিকা বাজার এলাকায় একটি কাঠবোঝাই ট্রাক দিয়ে রাস্তা আটকে আইনজীবীদের কনভয় ঘেরাও করে ৩০-৩৫ জনের সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল। গাড়ি লক্ষ্য করে রড ও বাঁশ দিয়ে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় পুরুষ ও মহিলা আইনজীবীরা জখম হন, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র looted হয় এবং মহিলা আইনজীবীদের শ্লীলতাহানি ও হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে।
তিন দফায় তাণ্ডব ও পুলিশের ভূমিকা
প্রথম দফায় গড়বেতায় আক্রমণের পর পুলিশি নিরাপত্তার মাধ্যমে আইনজীবীদের স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শালবনি থানা এলাকায় পাবলিক স্কুলের কাছে পুনরায় বাঁশ ও ভারী পাথর ছুঁড়ে তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)-এর নির্দেশে অতিরিক্ত বাহিনী এসে তাঁদের নিরাপদে এলাকা পার করে দেয়।
আইনজীবীদের আরও অভিযোগ, শালবনি থানায় ডায়েরি করতে গেলে লিখিত অভিযোগের ভাষা পরিবর্তন করতে বলা হয় এবং প্রাথমিক বিশদ অভিযোগপত্র বাতিল করে সাধারণ একটি আবেদন জমা করতে বাধ্য করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
- সিপিআই(এম) ও বামপন্থীদের বক্তব্য: বাম নেতৃত্বের দাবি, এই বর্বরোচিত হামলা পরিকল্পিত এবং বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই রড-লাঠি নিয়ে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান তুলে হামলা চালিয়েছে। আইনজীবীদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সংবিধানে প্রদত্ত আইনি অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
- বিজেপির অস্বীকার: রাজনৈতিক অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। গড়বেতার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ লোধা জানান, এই ঘটনার সাথে দলীয় কর্মী বা বিজেপির কোনও যোগ নেই, এটি ভিত্তিহীন অভিযোগ।
ঘটনার জেরে রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


