বিশেষ আবেগঘন প্রতিবেদন, প্যারিস — যে শহরকে মানুষ ভালোবাসার প্রতীক মনে করে, যে ফ্রান্সে পা রাখার স্বপ্ন বুকে লালন করে কোটি কোটি তরুণ—সেই স্বপ্নের ফ্রান্সে আজ কেবলই এক নিঃশব্দ কান্নার সুর। প্যারিসের ঐতিহাসিক সিয়েন নদীর জল আজও বইছে, কিন্তু তার দুই কূলে থমকে গেছে সাধারণ মানুষের এক মুঠো সুখে বাঁচার রঙিন স্বপ্ন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম, বাসা ভাড়ার নাম করে সাধারণ মানুষের পকেট খালি করা এবং সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে এক বুক কষ্ট আর ক্ষোভ নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ।
আড়ালে ঢাকা স্বপ্নের কান্না
পর্যটকদের রঙিন ভালোবাসার শহরের আড়ালে আজ বেঁচে থাকার নির্মম আকুতি স্পষ্ট:
- এক মুঠো খাবারের সংগ্রাম: ফ্রান্সের রঙিন কফি শপ কিংবা বিশ্বখ্যাত ব্যাকরিগুলোর আড়ালে সাধারণ পরিবারগুলোর দিন কাটছে আতঙ্কে। মেট্রোপলিটন ফ্রান্সের ১৫ শতাংশের বেশি মানুষ আজ দারিদ্র্যের শিকার। প্রতিদিন হিসাব কষে বাগেট রুটি কিনতে গিয়ে অনেক বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের সামনে চোখের জল মুছতে হচ্ছে।
- ছোট ঘরের বোবা কষ্ট: বাইরের চোখধাঁধানো বারান্দা আর পুরনো স্থাপত্যের পেছনে ঘুপচি ঘরের অন্ধকারে গাদাগাদি করে দিন কাটাচ্ছে শত শত পরিবার। মাস শেষে বাসা ভাড়ার এক হাজার ইউরোর ধাক্কা সামলাতে গিয়ে অনেকের রাতের ঘুম হারিয়ে গেছে।
- গ্রামের নীরব হাহাকার: কেবল প্যারিস নয়, ফ্রান্সের শান্ত গ্রামগুলোতেও আজ হাহাকার। যেখানে একসময় হাসিখুশি জীবন ছিল, সেখানে আজ না আছে পর্যাপ্ত ডাক্তার, না আছে তরুণদের কাজের সুযোগ।
"ভালোবাসার শহর আমাদের আর কিছুই দিতে পারল না"
গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক বয়োবৃদ্ধ ফরাসি নাগরিক ভেজা চোখে বলছিলেন—
"আমরা অনেক সহ্য করেছি। বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ চালানো যাচ্ছে না, শীতে ঘর গরম রাখার বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমরা রোমান্টিকতা চাই না, আমরা শুধু একটু শান্তিতে বাঁচতে চাই। কিন্তু ভালোবাসার শহর আমাদের আর কিছুই দিতে পারল না।"
ঝলমলে আলোকসজ্জা আর ক্যাফের মিষ্টি সুবাসের আড়ালে প্যারিস আজ তার নিজের সন্তানদের কান্না সামলাতে ব্যস্ত। যে প্যারিসকে পুরো বিশ্ব ভালোবাসে, সেই প্যারিসের ভেতরের মানুষগুলো আজ বেঁচে থাকার এক কঠিন লড়াইয়ে একা, বড় একা!


