মহিলা সংরক্ষণ বিল হল একটি প্রস্তাবিত আইন যা ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা এবং সমস্ত রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষণের বিধান করবে। এই বিলটি প্রথম ১৯৯৬ সালে লোকসভায় পেশ করা হয়, কিন্তু এখনও পর্যন্ত এটি পাস হয়নি।
মহিলা সংরক্ষণ বিলের ধারণাটি বহু বছরের পুরানো। ১৯১৭ সালে, বিশিষ্ট ভারতীয় নারীবাদী নেত্রী সরোজিনী নায়ডু আইন পরিষদের ৩৩% আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের দাবি জানান। ১৯৩১ সালে, অল ইন্ডিয়া উইমেন্স কনফারেন্স একটি প্রস্তাব পাস করে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ২৫% আসন সংরক্ষণের দাবি জানায়।
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পর, সংবিধান সভা মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করে, কিন্তু সংবিধানে কোনো ধরনের বিধান রাখে না। যাইহোক, সংবিধানে তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতির জন্য আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মহিলা সংরক্ষণ বিলের দাবি বাড়ছে। ১৯৯৩ সালে, মহিলাদের জন্য সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষার পর্যালোচনা করার জন্য জাতীয় মহিলা কমিশন গঠিত হয়। কমিশন সুপারিশ করে যে লোকসভা এবং সমস্ত রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩% আসন সংরক্ষণ করা হোক।
মহিলা সংরক্ষণ বিলটি প্রথম ১৯৯৬ সালে লোকসভায় পেশ করা হয়। যাইহোক, এটি পাস হয় না। তখন থেকে বিলটি বেশ কয়েকবার পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত পাস হয়নি।
মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসে বিলম্বের কয়েকটি কারণ রয়েছে। একটি কারণ হল রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিলটি নিয়ে কোনো ঐকমত্য নেই। কিছু দল বিলটিকে সমর্থন করে, অন্যরা বিরোধিতা করে। আরেকটি কারণ হল বিলটি কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে সম্পর্কে উদ্বেগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু লোকের উদ্বেগ রয়েছে যে বিলটির কারণে এমন মহিলা নির্বাচিত হতে পারেন যারা পদে থাকার জন্য যোগ্য নন।
বিলম্ব সত্ত্বেও, মহিলা সংরক্ষণ বিল এখনও নারী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য নাগরিক সমাজ সংগঠনের একটি জনপ্রিয় দাবি। তারা বিশ্বাস করেন যে বিলটি রাজনীতিতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করবে।



