দুর্গাপুর, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩: অন্য রাজ্যে চলাচল করলেও এ রাজ্যে প্রথম শুরু হলো ইলেকট্রিক হেভি ভেহিকেইলস বা ইলেকট্রিক পণ্য যান। গাড়িটি সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব শৈলীতে নির্মিত। মাল বহন ক্ষমতা পঞ্চান্ন টন। হাই ওয়ে তে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ডিজেল বা পেট্রল পণ্য বাহী ট্রান্সপোর্ট বিকল্প হিসেবে ভারত স্টেজ সিক্স সম্পূর্ণ দূষন হীন এই মালবাহী গাড়িটির ট্রায়াল রান শুরু হলো দুর্গাপুর ড্রাই ডক বা দুর্গাপুর শুষ্ক বন্দর থেকে। পূর্ব ভারতের অন্যতম ড্রাই ডক তো বটেই এটি রাজ্যের একমাত্র শুষ্ক বন্দর। এই বন্দর থেকে দেশ বিদেশে পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে।
ভারী পণ্য বাহী এই ইলেকট্রিক ট্রাকটি একশো শতাংশ চার্জ হতে সময় লাগে মাত্র এক ঘন্টা। একবার গাড়িটি চার্জ করলে একশো ষাট কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়িটি যেতে পারে। যেহেতু দেশে জুড়ে সর্বত্র চার্জিং পয়েন্ট লাগানোর ব্যবস্থা গড়ে উঠছে তাই এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথের মাঝে কোথাও চার্জ করার পয়েন্ট থাকবে। আর ভারী পণ্য নিয়ে এই পণ্য বাহী ট্রাকটি ডিজেলের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে মাল নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বছরে প্রায় বারো লক্ষ্য টাকা সাশ্রয় করবে। আর এই সব কেও ছাড়িয়ে যে বাণিজ্যিক বিষয়টি মূল ভাবে উঠে আসছে তা হলো রাজ্য বা আন্ত রাজ্য সড়ক পরিবহন ক্ষেত্রে ডিজেল বা পেট্রল গাড়ির জন্য যে সড়ক পরিবহন পার্মিট ট্যাক্স দিতে হত এই ভারী পণ্যবাহী ইলেকট্রিক গাড়িটির ক্ষেত্রে কোনো পারমিট ট্যাক্স লাগবে না। এক কথায় পার্মিট ফ্রী গাড়ি হিসেবে এটি ইতিমধ্যেই গ্রহণ যোগ্য হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক মহলে। দূষণ হীন গাড়িটির দাম প্রায় এক কুড়ি লক্ষ্য টাকা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইলেকট্রিক পণ্য যানটি রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দূষণ কমাতে এবং পরিবহন খরচ সাশ্রয় করতে এটি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
ইলেকট্রিক পণ্য যান সম্পর্কে যা জানা দরকার
- ইলেকট্রিক পণ্য যানগুলি ডিজেল বা পেট্রল পণ্য বাহী ট্রান্সপোর্টের পরিবর্তে একটি পরিবেশ বান্ধব বিকল্প।
- এগুলি দূষণ কমাতে সাহায্য করে এবং পরিবহন খরচ সাশ্রয় করতে পারে।
- ইলেকট্রিক পণ্য যানগুলির চার্জিং সময় ডিজেল বা পেট্রল পণ্য বাহী ট্রান্সপোর্টের তুলনায় বেশি।
- তবে, দেশে জুড়ে সর্বত্র চার্জিং পয়েন্ট লাগানোর ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।
- তাই, ইলেকট্রিক পণ্য যানগুলির চার্জিং সমস্যা ক্রমশ কমে আসছে।


