তেহরান/নয়াদিল্লি, ১৩ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনার মাঝে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় বসলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ান। বৃহস্পতিবার রাতে দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
প্রধানমন্ত্রী মোদি ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা, বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আলোচনায় ভারতের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রধান বিষয় তুলে ধরা হয়:
নাগরিক নিরাপত্তা: ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জ্বালানি নিরাপত্তা: ভারতের তেল ও গ্যাস আমদানির বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে, তাই এই পথ সচল রাখা ভারতের শীর্ষ অগ্রাধিকার।
অবাধ বাণিজ্য: পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
উত্তেজনার মাঝে স্বস্তির খবর
গত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় ভারতীয় পতাকাবাহী বেশ কিছু ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছিল। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকের পর ইতিবাচক সংকেত মিলেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান ভারতীয় জাহাজগুলোকে বিশেষ বিবেচনায় পারাপারের অনুমতি দিয়েছে। ইতিমধ্যে একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার সফলভাবে মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
গুজব বনাম বাস্তবতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভিত্তিহীন দাবি ছড়িয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ভারতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বা সরকারি সূত্র এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বরং ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমেরিকা ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ বাদে অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম দেশের সঙ্গে তারা আলোচনার ভিত্তিতে সহযোগিতার নীতি গ্রহণ করছে।
"ভারত স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং BRICS-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" — ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও ইরানের এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কেবল জ্বালানি সরবরাহ নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের হাত থেকে বাঁচাতে সহায়ক হবে। যদিও পরিস্থিতি এখনও বেশ পরিবর্তনশীল, তবুও ভারতের এই "ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট" বা ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।


