আগ্রা: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) আগ্রা থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
ধৃত ওই নৌসেনা কর্মীর নাম আদর্শ কুমার, যিনি ল্যান্স নায়েক পদে কর্মরত ছিলেন। উত্তরপ্রদেশ এটিএস-এর দাবি, আদর্শ কুমার ভারতীয় নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পাচার করছিলেন।
তদন্তে উঠে আসা মূল তথ্যসমূহ:
গোপন তথ্য পাচার: অভিযোগ উঠেছে যে, আদর্শ কুমার ভারতীয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির ছবি ও মানচিত্র পাকিস্তানি এজেন্টদের পাঠিয়েছিলেন।
আর্থিক লেনদেন: গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই তথ্যের বিনিময়ে আদর্শ কুমার বেশ কিছু আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করেছিলেন। তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
যোগাযোগ মাধ্যম: পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সাথে যোগাযোগের জন্য তিনি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করতেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি জনৈক মহিলার ছদ্মবেশে থাকা পাকিস্তানি এজেন্টের ফাঁদে (Honey Trap) পড়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এটিএস-এর অভিযান:
বেশ কিছুদিন ধরেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং উত্তরপ্রদেশ এটিএস আদর্শ কুমারের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই আগ্রার ক্যাগাউল এলাকা থেকে তাঁকে জালে তোলা হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য: "দেশের সুরক্ষার সাথে কোনোভাবেই আপস করা হবে না। ধৃত ব্যক্তির থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও কত গভীরে এই চক্র বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা চলছে।"
বর্তমানে আদর্শ কুমারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আর কে কে যুক্ত আছে এবং ইতিমধ্যে কতটুকু তথ্য সীমান্তের ওপারে পৌঁছেছে, সেটিই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।


