আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১ মে, ২০২৬
আট ঘণ্টার কর্মদিবস কোনো উপহার ছিল না; এটি ছিল এক দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। বর্তমানের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার পেছনে রয়েছে ১৮৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া এক বিশাল গণআন্দোলনের ইতিহাস। ২১শে এপ্রিল শ্রমবিরতির মাধ্যমে যে প্রতিবাদের শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।
সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু: শিকাগো ও হে-মার্কেট ট্র্যাজেডি
১৮৮৬ সালের মধ্যে এই আন্দোলন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। মে মাসের শুরুতে প্রায় ৫ লাখ শ্রমিক ধর্মঘটে যোগ দেন। আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে শিকাগো শহর। সেখানে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ভয়াবহ সংঘর্ষে বহু মানুষ হতাহত হন, যা ইতিহাসে 'হে-মার্কেট অ্যাফেয়ার' নামে পরিচিত।
এই চরম আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করেই ১লা মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি ও প্রতিরোধের দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
"যতদিন বুর্জোয়া ও শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের লড়াই চলবে... ততদিন মে দিবস হবে এই দাবির বার্ষিক বহিঃপ্রকাশ। আর যখন সুদিন আসবে, যখন বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণী তাদের মুক্তি ছিনিয়ে আনবে, তখনও মানুষ মে দিবস পালন করবে—অতীতের সেই তিক্ত সংগ্রাম আর অগণিত কষ্টের সম্মানে।"
— রোজা লুক্সেমবার্গ, ১৮৯৪
মে দিবসের গুরুত্ব
আজ মে দিবস কেবল একটি ছুটির দিন নয়, বরং এটি শ্রমিকদের ঐক্য এবং অধিকার আদায়ের প্রতীক। ১৮৫৬ সালের সেই শুরু থেকে আজকের আধুনিক কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত, এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অধিকার কখনোই এমনি আসে না, তা অর্জন করে নিতে হয়।
সারা বিশ্বে আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে, যেখানে শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও ন্যায্য মজুরির দাবি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে।


