কলকাতা, ২৯ মে ২০২৬: কালবৈশাখীর তাণ্ডব এবং প্রবল বৃষ্টিতে শুক্রবার কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝড়, বজ্রপাত এবং ভারী বর্ষণের ফলে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া দফতর (IMD) পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলার জন্য কমলা সতর্কতা (Orange Alert) জারি করেছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হুগলি জেলায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এর পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ এবং কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং যান চলাচলে সমস্যার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কলকাতার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জল জমে যাওয়ায় অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। একাধিক রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে জল জমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় কৃষিজমি জলমগ্ন হওয়ার ফলে কৃষকদেরও উদ্বেগ বাড়ছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি ২৯ ও ৩০ মে জুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে এবং ৩১ মে পর্যন্ত এর প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও দার্জিলিং জেলাগুলির জন্যও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা আগমনের প্রাক্কালে মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত যে কালবৈশাখী মৌসুম চলে, তারই প্রভাবে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। বজ্রপাতে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার এবং জল জমা এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে।


