চন্দননগর: হুগলি জেলার চন্দননগর পৌরনিগমে (Chandannagore Municipal Corporation) নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) বড়সড় ভাঙনের জেরে কার্যত ভেঙে পড়ল চন্দননগরের বর্তমান পৌরবোর্ড। মেয়র রাম চক্রবর্তী এবং ৩০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। ৩৩ আসনের এই পৌরনিগমে এই গণ-ইস্তফার পর শাসকদলের মাত্র একজন কাউন্সিলর এবং বামেদের (CPIM) দুজন কাউন্সিলর অবশিষ্ট রয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই কোনো পৌরবোর্ডের সবচেয়ে বড় পতন।
ধাপে ধাপে চরম সংকট
সূত্রের খবর, এই সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল একটু অন্যভাবে। প্রথমে ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল সহ ৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন। সেই খবর জানাজানি হতেই পৌরনিগমের বোর্ড মিটিং বাতিল করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি সেখানে থিতু হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই অসন্তোষের আগুন চরম রূপ নেয় এবং মেয়র রাম চক্রবর্তী নিজে আরও ৩০ জন কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে কার্যত ফাঁকা হয়ে যায় পুরো বোর্ড।
কেন এই গণ-ইস্তফা?
চন্দননগর বিধানসভা আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। পৌরবোর্ডের অভ্যন্তরীণ কাজের ধরণ এবং নেতৃত্বের একাংশের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই বিদ্রোহ বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় কোন্দল ও সমন্বয়ের অভাবের জেরেই শেষ পর্যন্ত বোর্ড ধরে রাখা সম্ভব হলো না।
নাগরিক পরিষেবা স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা
মেয়র ও প্রায় সমস্ত কাউন্সিলর একসঙ্গে পদত্যাগ করায় চন্দননগরে এক চরম প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বোর্ড মিটিং বাতিল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নাগরিক শংসাপত্র, জলনিকাশি ও অন্যান্য জরুরি পুর-পরিষেবা কীভাবে সচল থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশাসন কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
লড়াইয়ের ডাক বামেদের
পুরো ঘটনায় চন্দননগরের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে। পৌরনিগমে এই মুহূর্তে মাত্র ২ জন সিপিআইএম (CPIM) কাউন্সিলর রয়েছেন। তৃণমূলের এই নজিরবিহীন পতনের পর বামেদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তৃণমূলের ভেতরের দুর্নীতি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই আজ চন্দননগরের মানুষের এই ভোগান্তি। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা আগামীদিনে আরও জোরালো লড়াই আন্দোলন গড়ে তুলবেন।


