" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory মধ্যপ্রদেশে রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক: মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে ‘গণতন্ত্র খর্বের’ অভিযোগ //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

মধ্যপ্রদেশে রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক: মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে ‘গণতন্ত্র খর্বের’ অভিযোগ




ভোপাল, ১০ জুন: মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী Meenakshi Natarajan-এর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর বিরোধী শিবির অভিযোগ তুলেছে যে শাসক দল বিজেপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে তৃতীয় রাজ্যসভা আসন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।

কংগ্রেসের দাবি, বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিজেপি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে বিরোধী প্রার্থীকে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে “সিট চুরি” বলে আখ্যা দিয়েছে।


সংখ্যার অঙ্ক কী বলছে?


২৩০ সদস্যের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় একটি রাজ্যসভা আসনে জয়ী হতে প্রয়োজন ৫৮টি প্রথম পছন্দের ভোট।

বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ১৬৪। এই সংখ্যা তাদের প্রথম দুই প্রার্থী— Tarun Chugh এবং Rajneesh Agrawal-কে সহজেই জয়ী করার জন্য যথেষ্ট ছিল।

তবে দুই প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর বিজেপির হাতে অবশিষ্ট থাকত ৪৮টি ভোট, যা তৃতীয় প্রার্থী Mahesh Kevat-কে জয়ী করার জন্য প্রয়োজনীয় ৫৮ ভোটের থেকে ১০ কম।

কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন বুঝেই বিজেপি ভোটাভুটির ময়দান থেকে বিষয়টিকে মনোনয়ন যাচাইয়ের পর্যায়ে নিয়ে যায়।


মনোনয়ন বাতিলের কারণ কী?


বিজেপি প্রার্থী মহেশ কেভাট আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করেন যে মীনাক্ষী নটরাজন তাঁর হলফনামায় একটি “অপরাধমূলক মামলা” গোপন করেছেন। এই আপত্তির ভিত্তিতে রিটার্নিং অফিসার Arvind Sharma মনোনয়ন বাতিল করেন।

তবে কংগ্রেসের বক্তব্য, নটরাজনের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর বা ফৌজদারি মামলা নেই। যে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে তা একটি ব্যক্তিগত দেওয়ানি আবেদন, যেখানে তিনি তেলেঙ্গানার এআইসিসি ইনচার্জ হওয়ার কারণে প্রতিপক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

কংগ্রেসের যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত ফৌজদারি মামলার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক হলেও সাধারণ দেওয়ানি নোটিশ বা শোকজ নোটিশ সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। ফলে এই ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা নজিরবিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


কংগ্রেসের আরও অভিযোগ


কংগ্রেস দাবি করেছে, সম্ভাব্য ক্রস-ভোটিং বা বিধায়ক ভাঙানোর আশঙ্কায় তারা নিজেদের ৬৪ জন বিধায়ককে কর্ণাটকে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ভোপালের রাজা ভোজ বিমানবন্দরে তাদের বিমানের উড্ডয়ন কয়েক ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই বিলম্বের মধ্যেই মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়, ফলে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই শেষ হয়ে যায়।


গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যদি কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত দেওয়ানি আবেদনের ভিত্তিতে বাতিল করা হয়ে থাকে, তবে তা ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য একটি উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের দাবি, নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করা হলে রিটার্নিং অফিসারের ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা K. C. Venugopal এবং Jairam Ramesh নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন।

মধ্যপ্রদেশের এই ঘটনা রাজ্যসভা নির্বাচনের সীমা ছাড়িয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies