" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের পদত্যাগ কি বিজেপির ‘মাস্টারস্ট্রোক’? বদলে যেতে পারে ক্ষমতার অঙ্ক //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদদের পদত্যাগ কি বিজেপির ‘মাস্টারস্ট্রোক’? বদলে যেতে পারে ক্ষমতার অঙ্ক

 


বিশেষ প্রতিবেদন | Views Now

নয়াদিল্লি: ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে সাধারণত লোকসভার সংখ্যার দিকেই সবার নজর থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে প্রকৃত লড়াইয়ের ময়দান হতে পারে রাজ্যসভা। কারণ, লোকসভায় যেখানে এনডিএ জোটের সামনে বড় অঙ্কের বাধা রয়েছে, সেখানে রাজ্যসভার সমীকরণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি অনুকূল।

সংবিধানের ৩৬৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধিকাংশ সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য সংসদের উভয় কক্ষেই উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন এবং একই সঙ্গে কক্ষের মোট সদস্য সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এই কারণেই রাজ্যসভার সংখ্যার অঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজ্যসভার বর্তমান সমীকরণ

২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজ্যসভার মোট আসন সংখ্যা ২৪৫। সাংবিধানিক সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে কার্যকর দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রায় ১৬৪টি ভোটের প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমানে এনডিএ জোটের শক্তি প্রায় ১৪৯ জন সদস্য। অর্থাৎ শাসক জোট লক্ষ্যমাত্রা থেকে মাত্র ১৫টি আসন পিছিয়ে রয়েছে। লোকসভার তুলনায় এই ব্যবধান অনেক কম।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের বড় দলগুলোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের ১২ জন রাজ্যসভার সাংসদ যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারেন।

সমীকরণ এক: সরাসরি সমর্থন

যদি কোনও নির্দিষ্ট ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি সরকারের পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে এনডিএ-র ১৪৯ ভোটের সঙ্গে আরও ১২টি ভোট যোগ হয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬১।

সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র তিন ভোট দূরে থাকবে সরকার। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বা ইস্যুভিত্তিক অবস্থান নেওয়া দলগুলোর কয়েকটি ভোট পেলেই বিল পাস করানো সম্ভব হতে পারে।

সমীকরণ দুই: ‘ডিনোমিনেটর স্ট্র্যাটেজি’

সংসদীয় রাজনীতিতে আরও একটি বহুল আলোচিত কৌশল হলো ‘ডিনোমিনেটর স্ট্র্যাটেজি’। এই কৌশলে বিরোধী দল সরাসরি সমর্থন না জানিয়ে ভোটাভুটি থেকে বিরত থাকে অথবা কক্ষত্যাগ করে।

যদি কোনও বড় বিরোধী দল ভোটাভুটির সময় ওয়াকআউট করে, তাহলে কার্যত ভোটদানকারী সদস্যের সংখ্যা কমে যায়। ফলে দুই-তৃতীয়াংশের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সংখ্যাও কমে যেতে পারে।

ধরা যাক, ১২ জন সদস্যের একটি দল ভোটাভুটিতে অংশ নিল না। সেক্ষেত্রে কার্যকর সদস্য সংখ্যা ২৪৫ থেকে কমে ২৩৩-এ নেমে আসবে। ফলস্বরূপ সরকারকে যে সংখ্যক সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে, তার অঙ্কও কিছুটা নিচে নেমে আসতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিরোধী দল প্রকাশ্যে সরকারের পক্ষে ভোট না দিয়েও পরোক্ষভাবে সরকারকে সুবিধা করে দিতে পারে। কারণ, ভোটদানে অংশ না নেওয়ার ফলে বিরোধী ভোটের শক্তি কমে যায় এবং সরকারের লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।

কেন রাজ্যসভা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

লোকসভায় এনডিএ-র সামনে এখনও বড় সংখ্যাগত বাধা রয়েছে। সেখানে বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক অংশগ্রহণ ছাড়া কোনও বড় সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা কঠিন।

অন্যদিকে রাজ্যসভায় ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম। ফলে কয়েকটি দলের অবস্থান পরিবর্তন, অনুপস্থিতি অথবা ওয়াকআউটের মতো কৌশল অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, আগামী দিনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যে কোনও বড় বিতর্কে নজর রাখতে হবে শুধু লোকসভার দিকে নয়, রাজ্যসভার সংখ্যার অঙ্ক এবং বিরোধী দলগুলোর ভোটাভুটির কৌশলের দিকেও।

রাজনৈতিক বার্তা

ওয়াকআউট বা ভোটদানে বিরত থাকা সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বীকৃত রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি পদ্ধতি। তবে সংখ্যার অঙ্কের বিচারে এই কৌশল কখনও কখনও সরকারের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে।

ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিলের ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলো শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়— সরাসরি বিরোধিতা, সমর্থন, নাকি ওয়াকআউট— তা ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies