ভিউস নাও নিউজ ডেস্ক | কলকাতা | ১৯ জুন ২০২৬
উত্তরবঙ্গ জুড়ে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) ১৮ জুন বিকেল ২টায় জারি করা বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এর ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি ঢালগুলি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই এই দুই জেলায় শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। প্রশাসনকে সম্ভাব্য ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু পাহাড় নয়, সমতলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের নদীগুলি। তিস্তা, জলঢাকা, জলঢাকা অববাহিকা, তোরসা ও অন্যান্য নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
সড়ক যোগাযোগও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং ও সিকিমের সংযোগকারী জাতীয় সড়ক NH-10 অতীতে একাধিকবার ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং সংযোগকারী NH-110 এবং দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের পেশক রোডেও জলধস ও রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় পাহাড়ি যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৫ জুন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিম্নভূমি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নদী সংলগ্ন অঞ্চল, পাহাড়ি ঢাল ও ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের মানুষ এখন আকাশের দিকেই তাকিয়ে। বর্ষার এই দফায় প্রকৃতির রুদ্ররূপ কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পাহাড় থেকে সমতল— সর্বত্র।


