নয়াদিল্লি, ২০ জুন: এনইইটি-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষার্থীদের উপর ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের প্রতিবাদে দিল্লির জন্তর মন্তরে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র অনির্দিষ্টকালের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দিল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার বিক্ষোভস্থলে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর জেরে জন্তর মন্তর চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলা হয়। জন্তর মন্তরের চারপাশে ব্যারিকেড বসিয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনকারীদের একাংশ অবস্থান চালিয়ে যান।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকারও খর্ব করা হচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এনইইটি-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস, মূল্যায়নে অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, পরীক্ষার চাপ, প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং অনিয়মের ফলে বহু শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে স্বচ্ছ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, এটি ককরোচ জনতা পার্টির জন্তর মন্তরে দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। এর আগে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেও সংগঠনটি একই ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক ও যুবকেন্দ্রিক প্রচারের মাধ্যমে সংগঠনটি সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জন্তর মন্তরের এই ঘটনা শুধু একটি সংগঠনের আন্দোলন নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ছাত্র-যুব সমাজের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।





