পাটনা, ২০ জুন: বিহারের ভোজপুর জেলার প্রতিবাদী হিন্দু যুবক ভারত ভূষণ তিওয়ারির পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় সংঘর্ষে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু পরিবার, গ্রামবাসী এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগঠনের একাংশ এই বয়ান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনার জেরে মানবাধিকার, পুলিশের জবাবদিহিতা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারত তিওয়ারির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “গ্রামের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূরণ করতে হবে, না হলে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।” বন্যা ও গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের দাবিতে তিনি সরব ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তাঁর এই বক্তব্য বহু মানুষের কাছে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এনকাউন্টারের পরিস্থিতি। সমর্থক ও পরিবারের দাবি, ভারত তিওয়ারি আত্মসমর্পণ করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁকে জীবিত অবস্থায় আটক করা সম্ভব ছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওকে সামনে রেখে তারা প্রশ্ন তুলছে, যদি আত্মসমর্পণের সুযোগ ছিল, তবে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন কেন পড়ল?
অন্যদিকে পুলিশ দাবি করেছে, অভিযানের সময় তাদের ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর বিজেপি-শাসিত বিহারে মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নও সামনে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলার নামে যদি কোনও নাগরিকের মৃত্যু নিয়ে এত প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা কি সরকারের দায়িত্ব নয়? মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের একাংশও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ঘটনায় সবচেয়ে সরব হয়েছে বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনগুলি। CPI(ML) Liberation-সহ বিভিন্ন বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংগঠন বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ উঠলে শুধুমাত্র পুলিশি তদন্ত যথেষ্ট নয়; সত্য উদঘাটনের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একইসঙ্গে তারা নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজন সদস্যের চাকরির দাবিও তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভারত তিওয়ারির মৃত্যু শুধুমাত্র একটি এনকাউন্টার বিতর্ক নয়; এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত প্রকৃত সত্য জানা সম্ভব নয়। তবে ইতিমধ্যেই এই ঘটনা বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
ভারত তিওয়ারির শেষ ভাইরাল বক্তব্য এখন অনেকের কাছে শুধুমাত্র একজন যুবকের কথা নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ও বঞ্চনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।


