মুসৌরি, ২০ জুন: মধুচন্দ্রিমা কাটাতে উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে গিয়ে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হল দিল্লির ২৭ বছর বয়সি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পি রাধা গায়ত্রীর। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির কিদওয়াই নগর ইস্টের বাসিন্দা রাধা গায়ত্রী একটি আইটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্বামী সৌম্য শ্রীচরণও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের কর্মী এবং পুনেতে কর্মরত। ২০২৫ সালের ৮ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় সাত মাস পর মধুচন্দ্রিমা উপলক্ষে তাঁরা মুসৌরিতে যান।
১৪ জুন রাতে দম্পতি মুসৌরির টিপরিধার এলাকার একটি হোমস্টেতে ওঠেন। পরদিন, ১৫ জুন সকালে হোমস্টের ঘর থেকে রাধা গায়ত্রীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাঁকে ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর নাক থেকে রক্ত বের হচ্ছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে দুটি খালি মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বামী সৌম্য শ্রীচরণ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, রাতে তাঁরা একসঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন এবং ভোর সাড়ে তিনটা নাগাদ ঘুমাতে যান। পরে ঘুম থেকে উঠে তিনি স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ১৬ জুন চিকিৎসকদের একটি প্যানেলের উপস্থিতিতে ভিডিওগ্রাফি সহ ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে দেহে কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিসেরা সংরক্ষণ করে রাসায়নিক ও টক্সিকোলজি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ওষুধের স্ট্রিপ, মদের বোতল এবং অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোমস্টের কর্মী ও স্বামীকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাধা গায়ত্রী দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। পুলিশ স্বাভাবিক মৃত্যু, শারীরিক অসুস্থতা, মদ্যপানের প্রভাব কিংবা অন্য কোনও সম্ভাব্য কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখছে।
তদন্ত এখনও চলছে। টক্সিকোলজি ও ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।


