২০ জুন, ২০২৬: মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মাধ্যাকর্ষণই একমাত্র বল, যার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনো পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আশ্রয় নিতে বাধ্য করেনি। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী Physics Today-তে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই তুলে ধরা হয়েছে।
নিবন্ধটির সহ-লেখক হলেন ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ান্টাম অপটোমেকানিক্স বিশেষজ্ঞ মার্কাস অ্যাসপেলমেয়ার এবং পদার্থবিদ ড্যানিয়েল কার্নি। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে এমন কোনো পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই যা নিশ্চিতভাবে বলে যে মাধ্যাকর্ষণকে ব্যাখ্যা করতে একটি কোয়ান্টাম তত্ত্ব অপরিহার্য।
পদার্থবিজ্ঞানের অন্যান্য তিনটি মৌলিক বল—তড়িৎচৌম্বক বল, দুর্বল নিউক্লিয় বল এবং সবল নিউক্লিয় বল—সম্পর্কে বিপুল পরীক্ষামূলক তথ্য রয়েছে যা তাদের কোয়ান্টাম প্রকৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু মাধ্যাকর্ষণের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বই সব পরীক্ষায় সফলভাবে টিকে রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সমস্যার মূল কারণ হলো মাধ্যাকর্ষণের অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতি। অন্যান্য মৌলিক বলের তুলনায় এর শক্তি এতটাই কম যে পরীক্ষাগারে মাধ্যাকর্ষণের সম্ভাব্য কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম মাধ্যাকর্ষণের অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজে পেতে হলে বিজ্ঞানীদের আরও উন্নত এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে বৃহদাকার বা ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম সিস্টেম ব্যবহার করে এমন সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে হবে, যা মাধ্যাকর্ষণজনিত কোয়ান্টাম জড়াজড়ি (quantum entanglement) কিংবা মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রের কোয়ান্টাইজেশনের সম্ভাব্য চিহ্ন শনাক্ত করতে সক্ষম।
গবেষকরা "কোয়ান্টাম ক্যাভেনডিশ" ধরনের পরীক্ষা, বৃহদাকার হারমোনিক অসিলেটর, কোয়ান্টাম অপটিক্যাল নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি এবং ভাসমান কঠিন বস্তুর (levitated solids) ওপর ভিত্তি করে নতুন পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব প্রযুক্তি ভবিষ্যতে এমন ফলাফল দিতে পারে, যা কেবলমাত্র ধ্রুপদী (classical) মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হবে না।
পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন হলো—মাধ্যাকর্ষণ কি প্রকৃতপক্ষে কোয়ান্টাম? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশ্বজুড়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, আগামী দশকগুলিতে নতুন প্রযুক্তি এবং আরও সূক্ষ্ম পরীক্ষার মাধ্যমে মহাবিশ্বের এই গভীর রহস্যের সমাধানের পথে বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে।


