ভিউস নাউ ডিজিটাল ডেস্ক:
রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তিনতলা বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্ধ ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি ও মহানগর পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোরের কোনো এক সময়ে তাঁদের গলায় রশি বা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয়
- গণপতি চক্রবর্তী (৬৫): রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক নীতিবান হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক (গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসর নেন)।
- প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০): নিহত শিক্ষকের স্ত্রী।
- আগামী চক্রবর্তী (২৩): কারমাইকেল কলেজ থেকে সম্প্রতি ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা বড় মেয়ে।
- প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২): রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিভৎস দৃশ্য ও মরদেহ উদ্ধারের বিবরণ
রংপুর মেট্রোপলিটন সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং আসবাবপত্র তছনছ ছিল। নিহত প্রীতিলতা ও তাঁর মেয়ে আগামীর লাশ পাওয়া যায় বাড়ির সিঁড়িতে। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর নিথর দেহ ছাদে এবং ১২ বছরের ছোট ছেলে প্রিয়মের লাশ পাওয়া যায় খাটের নিচে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গণপতি চক্রবর্তী এলাকায় নতুন এক টুকরো জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করার পর থেকেই দেড় বছর ধরে একটি স্থানীয় চক্র তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। শিক্ষক হিসেবে নিয়মানুবর্তী ও কড়া স্বভাবের হওয়ায় তিনি ওই চাঁদাবাজদের হুমকিতে নতি স্বীকার করেননি। শিক্ষকতার নীতি ধরে রাখা এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ কি না, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তে যা বলছে পুলিশ
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ডিবির (ডিবি) টিম যৌথভাবে ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করেছে । পুলিশ জানিয়েছে:
- প্রাথমিক আলামতে ডাকাতি ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
- মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
- পরিবারের ব্যবহার করা চারটি মোবাইল ফোনই বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ ছিল।
ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


