মরণোত্তর দেহদান ও অঙ্গদান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সম্প্রতি করা একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেস বিবৃতি জারি করেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ’।
বিজ্ঞান মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরণোত্তর দেহদান না করে কেবল অঙ্গদানে উৎসাহিত করেছেন, যা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, "মরদেহ বিশেষ কাজে লাগে না" এবং উদাহরণ হিসেবে দাবি করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দান করা দেহও নাকি কোনো কাজে লাগেনি। বিজ্ঞান মঞ্চ এই বক্তব্যকে তথ্যগতভাবে ভুল ও নেতিবাচক বলে মনে করছে। সংগঠনটির মতে, এই ধরনের মন্তব্য জ্যোতি বসুর বিজ্ঞানমনস্কতা ও সামাজিক আন্দোলনকে খাটো করে।
বিজ্ঞান মঞ্চ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে:
- চিকিৎসা শিক্ষায় দেহের প্রয়োজনীয়তা: চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে অ্যানাটমি শেখার জন্য, মানবদেহের হাতে-কলমে ব্যবহারের বিকল্প হিসেবে কেবল 'এআই (AI) এবং ৩ডি ইমেজিং' পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে পারে না।
- প্রশাসনিক গাফিলতি: মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সরকারি পরিকাঠামোর অভাব, সমন্বয়হীনতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু ক্ষেত্রে ডোম না থাকা বা ফ্রিজ খারাপ থাকার অজুহাতে মৃতদেহ গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়।
- 'ব্রেন ডেথ' ঘোষণার জটিলতা: অঙ্গদানের ক্ষেত্রে 'ব্রেন ডেথ' ঘোষণার প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্য ভবনকেন্দ্রিক হওয়ায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়। দ্রুত এবং বিকেন্দ্রীকৃত ব্যবস্থা না থাকার কারণে অনেক সময় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ হাতছাড়া হয়।
বিজ্ঞান মঞ্চ এবং 'গণদর্পণ'-এর মতো সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে কুসংস্কার ও মৃত্যুভীতি দূর করে সাধারণ মানুষকে দেহদানে উৎসাহিত করে আসছে। বিজ্ঞান মঞ্চের দাবি, সরকার যেন এই আন্দোলনকে নিরুৎসাহিত না করে বরং পরিকাঠামোগত ত্রুটি দূর করে, ব্রেন-ডেথ ঘোষণার প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করে এবং স্বাস্থ্য ভবন ও হাসপাতালগুলির মধ্যে সঠিক সমন্বয় গড়ে তোলে।


