" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory হুগলির পুরশুড়ায় সিপিআই(এম) কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড়: দিগরুইঘাটে আক্রান্ত নেত্রী মমতা মালিক, কাঠগড়ায় বিজেপি //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

হুগলির পুরশুড়ায় সিপিআই(এম) কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড়: দিগরুইঘাটে আক্রান্ত নেত্রী মমতা মালিক, কাঠগড়ায় বিজেপি

 



বিশেষ প্রতিনিধি, পুরশুড়া:

হুগলি জেলার পুরশুড়ার দিগরুইঘাট এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক দল সিপিআই(এম)-এর কর্মী ও স্থানীয় নেতাদের ওপর বর্বরোচিত রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটার অভিযোগ উঠেছে। এই রাজনৈতিক তাণ্ডবে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবীণ বামপন্থী নেত্রী কমরেড মমতা মালিক। ঘটনায় জড়িত থাকা এবং এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস তৈরির অভিযোগে শাসক দলের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙ্গুল তুলেছে সিপিআই(এম)।


ঘটনার বিবরণ ও দিনভর তাণ্ডব


স্থানীয় সূত্র ও থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে দিগরুইঘাট এলাকায় একদল দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি:

  • সিপিআই(এম) সমর্থক কমরেড আনসার আলীর দোকানে হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে দলীয় পতাকা লাগানো হয়।

  • কমরেড বিমল সিংহ রায়ের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়।

  • স্থানীয় দিগরুইঘাট পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে বামপন্থীদের পতাকা উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

  • কমরেড ফেলারাম মালিক ও কমরেড আনসার আলীকে মারধর করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবিতে কমরেড মমতা মালিক, কমরেড লাল্টু সী ও কমরেড বিমল সিংহ রায়ের যৌথ নেতৃত্বে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।


রাতের অন্ধকারে নৃশংস হামলা


আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং সকালে তাণ্ডব চালানো সত্ত্বেও সন্ধ্যায় আবারও দিগরুইঘাট পার্টি অফিসে স্বাভাবিক কাজ শুরু করেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। রাত প্রায় ৮:৩০ মিনিট নাগাদ পার্টি অফিস থেকে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময়ে দিগরুইঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাড়ের কাছে কমরেড মমতা মালিকের পথ আটকায় একদল দুষ্কৃতী।


অভিযোগ, তাঁকে উদ্দেশ্য করে গালাগালি করার পাশাপাশি সজোরে মাথায় মদের বোতল দিয়ে আঘাত করা হয়। রক্তাত অবস্থায় তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে একটি বন্ধ ঘরের ভেতরে আটকে রেখে কোমর ও পিঠে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি এখনও চিকিৎসাধীন।


পুলিশের ভূমিকা ও তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা


বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, ঘটনার আগে এবং দিনভর টানা রাজনৈতিক তাণ্ডবের একাধিক আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু ঘটনার পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না নিয়ে তাঁদের আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ, যার ফলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।


এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরণের হামলা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ সংগঠিত হতে শুরু করেছেন। তবে অভিযুক্ত পক্ষের তরফে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies