নিজস্ব সংবাদদাতা, লখনউ: সারা ভারত কিষাণ সভা (এআইকেএস)-এর উত্তর প্রদেশ রাজ্য কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত দুটি আঞ্চলিক স্টাডি ক্যাম্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১২ থেকে ১৪ জুন পশ্চিম ও মধ্য উত্তর প্রদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে এটায় জেলায় এবং ১৫ থেকে ১৭ জুন পূর্ব উত্তর প্রদেশের প্রতিনিধিদের জন্য সুলতানপুর জেলার দোস্তপুরে এই প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। দুটি ক্যাম্প মিলিয়ে রাজ্যের ২৫টি জেলার প্রায় ২০০ জন শীর্ষস্থানীয় কৃষক কর্মী, সংগঠক ও নেতৃত্ব অংশগ্রহণ করেন।
বর্তমান কৃষি সংকট, কৃষক আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই স্টাডি ক্যাম্পগুলিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সামনে কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস, বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য রাখেন এআইকেএস-এর সর্বভারতীয় সভাপতি ড. অশোক ধাওয়ালে।
তিনি এআইকেএস-এর দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস, কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সংগঠনের অবদান, বর্তমান রাজনৈতিক ও কৃষি সংকট এবং স্বাধীন ও যৌথ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কৃষকদের সামনে তৈরি হওয়া নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
কৃষক আন্দোলনের সামনে আদর্শগত চ্যালেঞ্জ এবং সংগঠনের করণীয় বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এআইকেএস-এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক বাদল সরোজ। তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি ও কর্পোরেটমুখী কৃষিনীতি মোকাবিলায় সচেতনতা ও সংগঠিত আন্দোলনের বিকল্প নেই।
ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা এবং কৃষক সংগঠনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন এআইকেএস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পুষ্পেন্দ্র ত্যাগী। কৃষিজমি রক্ষা, ভূমিহীন কৃষকদের অধিকার এবং জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে সংগঠনের ভূমিকার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
এটায় আয়োজিত স্টাডি ক্যাম্পে ভারতে এবং বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের কৃষিক্ষেত্রে নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন এআইকেএস নেতা ডি পি সিং। তিনি কৃষিক্ষেত্রে কর্পোরেট অনুপ্রবেশ, উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং কৃষকদের ক্রমবর্ধমান সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
উত্তর প্রদেশে এআইকেএস-এর সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করা, নতুন এলাকায় সংগঠনের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক মুকুট সিং। তিনি গ্রামাঞ্চলে সংগঠনের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং কৃষকদের বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এটায় ও সুলতানপুরের এই দুটি স্টাডি ক্যাম্প সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। রাজ্য সভাপতি বাবুরাম যাদবের নেতৃত্বে রাজারাম যাদব, যোগেশ বাঘেল, রাধেশ্যাম বর্মা, শিবাজী, রাজবাহাদুর, অনিল দুবে এবং অমর বাহাদুর যাদবসহ অসংখ্য কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করে ক্যাম্পগুলির আয়োজন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কিষাণ সভার নেতৃত্বের মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বকে আরও দক্ষ ও সচেতন করে তুলবে। পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের দাবি-দাওয়া এবং কৃষি সংকটের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে এই স্টাডি ক্যাম্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।








