কলকাতা: ছাত্র সংগ্রাম পত্রিকার প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কমরেড অনিল বিশ্বাস স্মারক বক্তৃতায় বক্তব্য রাখলেন বামপন্থী ছাত্র নেতা সৃজন ভট্টাচার্য। আজ এক অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং যুবসমাজের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আন্দোলনের রূপরেখা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই সৃজন ভট্টাচার্য পূর্ববর্তী বক্তা সোহেল হাশমির (যিনি নাট্যব্যক্তিত্ব সফদর হাশমির ভাই) আলোচনার প্রশংসা করেন। একই সাথে তিনি জানান, অসুস্থ শরীর নিয়েও গৌতম দেব তাঁর নতুন বইয়ের উদ্বোধনের প্রেক্ষিতে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন, যা অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও ‘ইচ্ছেমতো’ নাট্যদলের পরিবেশনা ‘আনসেন্ট লেটার্স’ (Unsent Letters)-এর প্রস্তুতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর সংকট
বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতি ও পরিকাঠামোর তীব্র সমালোচনা করে সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, এই মুহূর্তে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা এক বড়সড় সংকটের মুখোমুখি। তিনি একাধিক উদাহরণ দিয়ে উল্লেখ করেন:
নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস: সর্বভারতীয় স্তরে চিকিৎসাবিদ্যার প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা।
সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণীর মূল্যায়ন: দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
ইউজিসি নেট (UGC NET): অনলাইনের আবেদন প্রক্রিয়া ও পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থা।
সিইউইটি (CUET UG/PG): পরীক্ষা বারবার পিছিয়ে দেওয়া বা স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত।
এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি বর্তমান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তোলেন।
দেশব্যাপী ৫ লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহের ডাক
সৃজন ভট্টাচার্য জানান, ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (SFI) এই সামগ্রিক শিক্ষা সংকটের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলছে। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আগামী ১৯ তারিখ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযানের (March to Education Ministry) ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেশজুড়ে ৫ লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহের (Signature Campaign) লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গকে এই আন্দোলনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আগামী ২-৩ দিন ছাত্র ও সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ জোরদার করার নির্দেশ দেন।
বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও আন্দোলনের মেলবন্ধন
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে ঘটে যাওয়া ‘অভয়া আন্দোলন’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই আন্দোলনের অন্যতম কারিগর সুবর্ণ গোস্বামীকে ধন্যবাদ জানান। সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, দেশ এবং রাজ্যকে বাঁচাতে তরুণ প্রজন্মকে শুধু রাজপথের আন্দোলনেই নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাতেও এগিয়ে আসতে হবে।
"আজকের এই মনোগ্রাহী আলোচনা যদি শুধু এই হলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রতিটি পাড়ায় এবং কলেজে ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে যদি নতুন বিতর্ক ও প্রশ্নের জন্ম হয়—তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে।"
— সৃজন ভট্টাচার্য
অনুষ্ঠানের শেষে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘এসএফআই জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


